
“আমি রাসেল বলছি” – ফয়জিয়া জাহান
আমি সেই রাসেল বলছি——-
সোনার বাংলার সোনার ছেলে রাসেল
যে পিতৃস্নেহ থেকে বঞ্চিত ছিল ,এই প্রাণের সোনার বাংলা জন্মাবে বলে ।
তাতে আমি কোন কৈফিয়ত করিনি কখনো,শুধু মাঝেমাঝে বায়না ধরতাম হাসু আপার বাবার আঙ্গুল ধরে হাঁটব বলে ।সুযোগই পেতাম না ।
মাঝে মাঝে বলতাম, হাসু আপা, আজ আমি কি ঘুমাতে পারব তোমার বাবার সাথে ?
অট্টহাসি দিয়ে হাসু আপা বলত , ধুর বোকা সে ত তোরও বাবা ।তবে সে ত আজ বেড়াতে গেছে, রাতে আসবে না,আসলে পরে ঘুমাবি।
সকালে দেখতাম মা জেলে খাবার নিয়ে যেত।
মা ফিরে আসলে জিজ্ঞেস করতাম জেল বুঝি হাসু আপার মেহমান বাড়ি?
গম্ভীর গলায় মা বলত হুম !
একদিন,দু’দিন করে কেটেই যেত অনেকদিন
কিন্তু হাসু আপার বাবা আর আসত না।
আমারও আর ঘুমানো হত না ।
কিন্তু তাতে ও আমি ত কোন জ্বালাতন করতাম না ।
তবে যখন আসল তখন তোরা কেন আমার বুকে বুলেট চালালি? আমি ত তোদের কোন ক্ষতি করিনি । আমি ত ঘাস ফড়িং এর মত এদিক ওদিক মায়ের পিছু পিছু ঘুরে বেড়াতাম।তবে কেন করলি ? কেন আমার বুক ঝাঁঝড়া করলি ?
হঠাৎ একদিন তোদের বুটের আওয়াজ শুনে,হাতে রাইফেল দেখে ভয়ে লুকিয়ে গিয়ে কত কেঁদেছি আমি । বাঁচার জন্য কত আকুতি মিনতি করেছি আমি , কিন্তু শুনলি না ,ঝাঁঝড়া করে দিলে আমার কচি পাঁজর গুলো। সাথে মা ভাই ভাবীদের ,ফুফা , বাবাকেও ।
অগাস্ট আসলেই কবরে শুয়ে শুয়ে আমি তোদের এই একটা প্রশ্নই করি ———
তোরা আমার পাঁজর গুলো কেন ঝাঁঝড়া করলি? কেন বাঁচতে দিলে না মা,ভাইয়া ভাবীদের , ফুফা, বাবাকে ? এই আমাকে ও ?
সোনার বাংলাকে কারবালা করবি বলে ?
কই পারলি ? পারলি না ত ?
সেই ত পঞ্চাশ পুরোতেই তোদেরও আসতে হল , ফাঁসীর কাস্টে ঝুলে ঝুলে ।
আমার সোনার বাংলা ত আবারও সোনার বাংলা হল ।
তবে এখন আমার মনে অনেক শান্তি ———
আমি,আমরা আছি বেহেশতের ফুলের বিছানায়
আর তোরা ত অন্ধকার কবরে ।
দুনিয়াতেও আমার হাসু আপা রাজাসনে
আর তোদের মা বোন , ভাই ভাবী , বাবা ফুফুরা বাঁচে মুখ লুকিয়ে ।
০৭.১৫.২০২৪
নিইউয়র্ক থেকে ।
ফয়জিয়া জাহান

Leave a comment