
সিলেট প্রতিনিধি ঃ বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় সিলেটে দু’জন নিহত হওয়ায় গতকাল দু’টি মামলা করা হয়েছে। এই দুই মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ছাড়াও আসামি করা হয়েছে অপসারণ হওয়া মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব ও এডভোকেট রণজিৎ সরকারকে। এ দু’টি মামলা গতকাল দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত চিফ ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে করা হয়। দু’টি মামলা দুই থানার পুলিশকে রেকর্ডপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। রুদ্র সেন হত্যা ঘটনায় মামলার বাদী আন্দোলনের শাবি সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেটের তিন সাবেক এমপিসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০০-২৫০ জনকে। মামলার আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবি’র সাবেক ভিসি ফরিদ উদ্দিন আহমদ, আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য রণজিৎ সরকার, সিলেট সিটি করপোরেশনের অপসারিত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর, জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ এবং দুজন এসআই ও ৫ জন কনস্টেবল। ১৮ই জুলাই সন্ধ্যায় কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় রুদ্র সেন আহতাবস্থায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে সুরমা বাগবাড়ী এলাকার একটি খাল পার হতে গিয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। তিনি শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শাবিপ্রবি’র কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স (সিইপি) বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
মামলার বাদী হাফিজুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানিয়েছেন- ৭৬ জন হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকায় এজাহারনামীয় আসামি করা হয়েছে। আদালত আমাদের সার্বিক অভিযোগ পর্যালোচনা করে সত্যতা পাওয়ায় অভিযোগটি এফআইআর হিসেবে নথিভুক্ত করেছেন। নিহত রুদ্র সেন আন্দোলনে সক্রিয় থাকায় তাকে পরিকল্পিতভাবে পানিতে ফেলে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এদিকে- ১৯শে জুলাই সিলেটের কোর্ট পয়েন্টে প্রকাশ্যে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক এটিএম তুরাব। গতকাল নিহতের ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ বাদী হয়ে মামলা করেছেন। মামলার এজাহারে আসামি হিসেবে পুলিশসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ পূর্বক অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে। মামলায় ২ নম্বর আসামি অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩ নম্বর আসামি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, ৪ নম্বর আসামি সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মিজানুর রহমান। আসামিরা হলেন- সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুর রহমান, থানার এসআই কাজী ?রিপন সরকার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিসিকের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পীযূষ কান্তি দে, সিলেট সিটি করপোরেশনের পিআরও সাজলু লস্কর, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিকের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, নগরের চালিবন্দর নেহার মঞ্জিলের বাসিন্দা শিবলু আহমদ, এসএমপি’র কনস্টেবল সেলিম মিয়া, আজহার ও ফিরোজ। এজাহারে উল্লেখ করা হয়- ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের মদতপুষ্ট আওয়ামী লীগ দুর্বৃত্তরা ও অবৈধ সরকারের অপেশাদার পুলিশ ও দুর্বৃত্ত দ্বারা ন্যক্কারজনক ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। আসামিরা সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে একজোট হয়ে বাদীর নিরপরাধ ছোট ভাই সাংবাদিক এটিএম তুরাবকে হত্যা করে। দিনদুপুরে শত শত মানুষের সামনে এ হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। বাদীপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আব্দুর রব আদালত থেকে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের বলেছেন- পুলিশ কর্মকর্তা আজবাহার আলীর নির্দেশে অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাদেক কাওসার গুলি ছুড়েন সাংবাদিক তুরাবকে লক্ষ্য করে। একই সঙ্গে অভিযুক্ত অন্যরাও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় আসামি করা হয়েছে।

Leave a comment