
জাতীয় ডেস্ক ঃ আজ মহান ১৬ই ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস। বাঙালি জাতির ২০০ বছরের বৃটিশদের কাছে পরাধীনতা আর ২৩ বছরের পাকিস্তানের নৈব্য উপনিবেশিকতা থেকে মুক্তি লাভ ও আত্মপরিচয়ের এক গৌরভ গাঁথা । ১৯৭১ সালের এই দিনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর সঙ্গে দীর্ঘ ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষে বাঙালি জাতি অর্জন করে স্বাধীনতা , একটি স্বাধীন পতাকা , একটি স্বাধীন মানচিত্র ।
অনেক সাহসিকতা, বীরত্ব, আত্মত্যাগ, অশ্রু ও সংগ্রাম শেষে স্বাধীন দেশে বিজয়ের আনন্দ উদযাপনের দিন আজ ।পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের নাম জানান দেওয়ার দিন।
বিজয়ের ৫৩ বছর পূর্ণ হলো আজ।১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ঢাকার ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানের সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) আত্মসমপর্ণ করে পরাজয়ের গ্লানি নিয়ে মাথা নিচু করে চলে যেতে বাধ্য হয় পাকিস্তান সেনাবাহিনী।এই যুদ্ধে বাংলাদেশের আর্মি , ইপিআর , আনসার ও লক্ষ লক্ষ মুক্তিবাহিনী অংশ নেয় ।একই সাথে ভারতের কয়েক হাজার সেনাবাহিনী বাংলাদেশের পক্ষে এই যুদ্ধে অংশ নেয় এবং তাদের প্রায় ১৭০০০ (সতের হাজার )সৈন্য শাহাদত বরণ করেন ।
বিশ্বের মানচিত্রে যুক্ত হয় লাল-সবুজ রঙের উজ্জ্বল এক পতাকা—স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ। এই লাল-সবুজ পতাকার সঙ্গে বাংলাদেশ অর্জন করে হাজার বছরের কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা, নিজস্ব সংবিধান ও মানচিত্র।
২০০ বছরের বৃটিশ উপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তিলাভের পর তৎকালীন পূর্ব বাংলার মানুষের মধ্যে প্রথম স্বাধীনতার বীজ বপন হয় ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। এরপর ৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ’৬২-এর শিক্ষা আন্দোলন, ’৬৬-এর ছয় দফা, ’৬৯-এর ১১ দফা ও গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশ স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে। ১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলেও পশ্চিম পাকিস্তানিরা ক্ষমতা হস্তাস্তর না করে নানা টালবাহানা ও ষড়যন্ত্রের জাল বুনতে শুরু করে।
১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চে রেসকোর্স ময়দানে বঙ্গবন্ধু বজ্র কন্ঠে উচ্চারণ করেন , “এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম “ ।২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে পাকিস্তান নিয়ে যায় এবং ঘুমন্ত ও নিরস্ত্র বাঙালিদের ওপর ইতিহাসের ঘৃণ্য ও বর্বরতম গণহত্যা চালায় পাকিস্তান হানাদার বাহিনী। ২৫ শে মার্চ বঙ্গবন্ধু কে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়ার পর ২৬ শে মার্চ তৎকালীন সেনা কর্মকর্তা মেজর জিয়াউর রহমান আনুষ্ঠানিকভাবে চট্টগ্রামের কালুর বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে পূর্ব বাংলার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এরপর শুরু হয় মুক্তিযুদ্ধ।
দীর্ঘ ৯ মাস রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের রক্ত এবং আড়াই লাখ নারীর সম্ভ্রমের বিনিময়ে অর্জিত হয় স্বাধীনতা। আত্মসমর্পণে বাধ্য হয় পাকিস্তানি বাহিনী। পৃথিবীর বুকে অভ্যুদয় ঘটে বাংলাদেশ নামের এক নতুন রাষ্ট্রের।
তার আগে ১৯৭১ সালের ১৪ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি সামরিক বাহিনী বাংলাদেশকে মেধাহীন করার লক্ষ্যে জাতীর কয়েক হাজার শ্রেস্ট সন্তান বুদ্ধিজীবীদেরকে হত্যা করে এ দেশেরই দোষর আল বদর , আল সাম্স বাহিনীর সহযোগিতায়।
বিজয় দিবস উদযাপন করতে আজ সোমবার সকাল থেকে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে জাতীর শহীদ ও বীরদের গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করবে সর্বস্তরের মানুষ।তবে জানা যায় এবার বিজয় দিবস উপলক্ষে সেনাবাহিনীর কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হবে না ।
সূত্র ঃ SNL নিউজ প্রতিবেদন ।

Leave a comment