জাতীয় ডেস্ক ঃ জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় ও গণস্বার্থের রাজনীতি প্রতিষ্ঠায় বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য শোনার জন্য দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ দেশের গণমানুষের রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান। আওয়ামী লীগ কাছে ক্ষমতা নয়, জনগণই মুখ্য। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায়া থাকুক আর ক্ষমতার বাইরে থাকুক, সর্বদা জনকল্যাণের নীতি মেনে ও জনস্বার্থে রাজনীতি করে। দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে একটি চক্রান্তকারী গোষ্ঠী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে নির্বাচিত একটি সরকারকে হটিয়ে অবৈধ ও অসাংবিধানিক উপায়ে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করে। এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই। তাই নিজেদের দুর্বলতা ঢাকতে তারা পরিকল্পিতভাবে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অপপ্রচার চালাচ্ছে। নিজেরদের দক্ষতা ও কর্মপন্থা দিয়ে নয় বরং প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করে, বিরোধী মত দমন করে তারা ক্ষমতায় টিকে থাকতে চায়। চক্রান্ত ও ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে মানুষের আবেগকে পুঁজি করে শেখ হাসিনার সরকার হটানোর গেইমে তারা সফল হলেও দেশের জনগণকে স্বস্তি দিতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ। বরং জনগণের জীবনকে নরকময় করে তুলেছে। জননেত্রী শেখ হাসিনার সময়ে দেশের মানুষের জানমালের নিরাপত্তা ছিল, মানুষ স্বস্তিতে নিঃশ্বাস নিতে পারত। অথচ আজ বাংলাদেশের মানুষের জানমালের কোনো নিরাপত্তা নেই। দেশের সর্বত্র নির্বিঘ্নে চুরি,ছিনতাই, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও লুটপাট চলছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ হত্যার শিকার হচ্ছে। অন্যান্য অধিকার তো দূরের কথা সাধারণ মানুষের বেঁচে থাকার অধিকারটাও নিশ্চিত করতে অপারগ জনগণের প্রতি দায়বদ্ধহীন এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার। মানুষের রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার, বাকস্বাধীনতা ও বিরোধী মত সংগঠনের জায়গাগুলোকে খর্ব করা হয়েছে। মবসন্ত্রাসের আতঙ্কের বিস্তার ঘটিয়ে গণমাধ্যমের স্বাধীনতার কেড়ে নেওয়া হচ্ছে। চিন্তাশীল মানুষের মস্তিষ্কের সম্প্রসারণশীলতাকে আটকে দিতে লেখকের কলম ভেঙ্গে ফেলার হুমকি দিচ্ছে সরকারের মদদপুষ্ট পাণ্ডারা। দেশের শহর-বন্দর-গঞ্জে এমনকি মহাসড়কে বৃদ্ধা থেকে শিশুকে ধর্ষণের মহোৎসব চলছে। আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ আজ অবৈধ দখলদার জালিম গোষ্ঠীর নিকট অবরুদ্ধ। সারা শরীরে উগ্র-জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, খুন ও ধর্ষণের দগদগে ক্ষত নিয়ে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রতিচিত্রিত। শুধু তা-ই নয়, অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার এই সরকার স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সরকারিভাবে প্রদত্ত বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা একের পর এক বন্ধ করে চলেছে। সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় বিভিন্ন ভাতা ইতিমধ্যে বন্ধ করা হয়েছে, ৪৩ লাখ পরিবারের টিসিবি ফ্যামিলি কার্ড বন্ধ করা হয়েছে, টিসিবিতে চাল বিক্রি বন্ধ করা হয়েছে। এই সরকার কোনো উপায়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করছে না। কৃষক ন্যায্যমূল্যে সার পাচ্ছে না। তার উপর সরকার বিভিন্ন সেক্টরে কর ও শুল্ক বৃদ্ধি করে জনগণের পকেট কাটার নীতি হাতে নিয়েছে এবং পরিকল্পিতভাবে দেশের শিল্পখাত সর্বোপরি অর্থনীতিকে ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। এ যেন মরার উপরে খাড়ার ঘা। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে অবৈধ ও অসাংবিধানিক দখলদার সরকারকে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে এ সকল অশুভ তৎপরতা বন্ধ করতে বলছি।
আমরা দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে আশ্বস্ত করতে চাই, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ আপনাদের পাশে আছে। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সভাপতি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা নিয়মিত বিরতিতে দলের নেতাকর্মী ও দেশবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করছেন। তারই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৯ জানুয়ারি দুপুর ১২:৩০মিনিটে দক্ষিণ কোরিয়া আওয়ামী লীগ, সন্ধ্যা ৬:৩০ মিনিটে দক্ষিণ আফ্রিকা ও রাত ৯:৩০ মিনিটে ফ্রাঙ্কফুর্ট (জার্মানি) আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য রাখবেন এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করবেন। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে সমগ্র দেশবাসী ও দলীয় নেতাকর্মীদের বক্তব্যগুলো শোনার আহ্বান জানাচ্ছি।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
সূত্র ঃ বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের ফেসবুক পেইজ


Leave a comment