নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ঃ যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ।সারা বিশ্বের চোখ ছিলো আজকের এই শপথ অনুষ্ঠানের দিকে ।সারা বিশ্বে যখন যুদ্ধের ধামামা চলছে এবং অনেক দেশে সরকারের সাথে আমেরিকার দুরত্ব তৈরী হয়েছে ঠিক এ রকম একটি পরিস্থিতিতে শপথ নিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বিশেষ করে ইসরাইল – ফিলিস্তিন যুদ্ধ ।ইসরাইল কতৃক ফিলিস্তিনের উপর আক্রমন , জুলুম ও নির্যাতন, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, দক্ষিন এসিয়ায় বাংলাদেশের নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে পাকিস্তান পন্থী মৌলবাদী সরকারের ক্ষমতা গ্রহণ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জন্য একটি নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ঐতিহাসিক এই শপথ নিয়ে তার বক্তব্যে তিনি বলেছেন, পতন থেকে উদ্ধার করে আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে সৃষ্টিকর্তা তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন। সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় ওয়াশিংটন ডিসির ক্যাপিটল ভবনের রোটুন্ডায় শপথ নেওয়ার পর অভিষেক ভাষণে এ কথা বলেন তিনি। ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, আমেরিকায় এখন থেকে সুবর্ণ যুগের সূচনা হয়েছে। আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আরও উন্নতি করবে। সারা বিশ্বে আবার সম্মান অর্জন করবে। যুক্তরাষ্ট্রকে দেখে ঈর্ষা করবে সব দেশ। কাউকে আর মার্কিনদের ব্যবহার করে সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
আমেরিকার সুবর্ণ যুগ শুরু হলো—যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি তার বক্তব্যে এ কথা বললেন । তাঁকে শপথ পাঠ করান যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস। এ সময় বিদায়ী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন, তাঁর স্ত্রী জিল বাইডেনসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। সবার উপস্থিতিতে ধর্মীয় গ্রন্থ বাইবেলের ওপর হাত রেখে শপথ পাঠ করেন ৭৮ বছর বয়সী ট্রাম্প।
শপথ গ্রহণের পর অভিষেক ভাষণ দেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ঠিক এখন থেকে আমেরিকার সুবর্ণ যুগের সূচনা হলো। আজ থেকে যুক্তরাষ্ট্র আরও উন্নতি করবে। সারা বিশ্বে আবার সম্মান অর্জন করবে। যুক্তরাষ্ট্রকে দেখে ঈর্ষা করবে সব দেশ। মার্কিনদের ব্যবহার করে কাউকে আর সুবিধা নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হবে না।
নিজের অভিষেকের দিনকে ‘স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে উল্লেখ করেন ট্রাম্প। নির্বাচনী প্রচারের সময় আততায়ীর হামলার কথা উল্লেখ করে বলেন, আমেরিকাকে আবার মহান করে তুলতে সৃষ্টিকর্তা তাঁর জীবন বাঁচিয়েছেন। অভিষেক ভাষণে আলোচিত নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর নিয়েও কথা বলেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, এই নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রকে আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনার যাত্রা শুরু হবে।
গির্জা ও হোয়াইট হাউস হয়ে ক্যাপিটলে ট্রাম্প শপথ নিতে ক্যাপিটল ভবনে পৌঁছার আগে ট্রাম্প তাঁর স্ত্রী মেলানিয়াকে নিয়ে প্রথমে গির্জা ও পরে হোয়াইট হাউসে যান। ট্রাম্প যথারীতি কোট–টাই পরলেও মেলানিয়ার নজরকাড়া পোশাকে আলাদা করে চোখে পড়ছিল তাঁর হ্যাট।
ট্রাম্প ও মেলানিয়া প্রথমে যান ওয়াশিংটনে সেন্ট জনস এপিস্কোপাল চার্চে। এটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের অভিষেক রীতির অংশ। এ সময় সেখানে ছিলেন ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস, সুন্দর পিচাই, টিম কুকসহ প্রযুক্তি অঙ্গনের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা। চার্চে আনুষ্ঠানিকতা শেষে ট্রাম্প ও মেলানিয়া যান হোয়াইট হাউসে। সেখানে তাঁদের স্বাগত জানান বিদায়ী প্রেসিডেন্ট বাইডেন ও বিদায়ী ফার্স্ট লেডি জিল বাইডেন। হোয়াইট হাউসে চা–চক্রে যোগ দেন। সেখান থেকে নতুন প্রেসিডেন্টের অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে সবাই রওনা দেন ক্যাপিটলের উদ্দেশে।
ক্যাপিটল ভবনে ট্রাম্পের শপথ গ্রহণের আগেই উপস্থিত হন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশ, বিল ক্লিনটন ও বারাক ওবামা। ছিলেন ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ট্রাম্পের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী কমলা হ্যারিস। অনুষ্ঠানে দেখা গেছে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকেও। বিদেশি নেতাদের মধ্যে ছিলেন ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি, আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট ।

অনুষ্ঠান শুরুর জন্য অতিথিদের অপেক্ষার মধ্যেই হোয়াইট হাউস থেকে ক্যাপিটলে এসে পৌঁছান ট্রাম্প, মেলানিয়া, বাইডেন ও জিল। ট্রাম্প যখন অনুষ্ঠানস্থলে প্রবেশ করছিলেন, তখন ভেসে আসছিল গানের সুর। হেঁটে গিয়ে ট্রাম্প নিজের আসনে বসেন। প্রথমে ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স। তাঁকে শপথ পড়ান সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি ব্রেট কাভানা। বাইবেলের ওপর হাত রেখে শপথ নেন জেডি ভ্যান্স।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে যারা অভিনন্দন জানিয়েছেন তারা হলেন, রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ব্লাদিমির পুতিন , তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপে এরদোয়ান, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনেস্কি, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার, জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ, কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি, ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লেন ও ন্যাটোর মহাসচিব মার্করুটে।


Leave a comment