https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5623148770593961

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ঃ বাংলাদেশের গত জুলাইয়ের ঘটনা প্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘ যে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে সেটি পক্ষপাতমূলক অভিহিত করে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ প্রত্যাখান করে বিবৃতি দিয়েছে । আমরা সেটি হুবহু পাঠকদের জন‍্য তুলে ধরলা।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে,বিগত বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে ম্যাটিক্যুলাস ডিজাইনের মাধ্যমে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে একটি নির্বাচিত সরকারের পতন ঘটানো হয়। ম্যাটিক্যুলাস ডিজাইনের অংশ হিসেবে শত শত মানুষ নিহত হয়। সরকারবিরোধী সেই আন্দোলনের আগে পরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড ও ঘটনা প্রবাহ নিয়ে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে মনে করি যথেষ্ট বস্তুনিষ্ঠতা ও নিরপেক্ষতার নীতি অবলম্বন না করে প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়েছে এবং তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগের কারণ রয়েছে। এই প্রতিবেদনটি স্পষ্টভাবে পক্ষপাত দোষে দুষ্টু ও ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের সরবরাহকৃত তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সরকারের অনুরোধে তা নির্ধারিত সময়ের আগে প্রকাশ করা হয়েছে। জাতিসংঘের সংস্থা অফিস অব দ্য হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর)-এর এই প্রতিবেদনে সময়সীমা ধরা হয়েছে, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট। যদিও আন্দোলনের চূড়ান্ত ঘটনা প্রবাই শুরু হয়েছে ১৪ জুলাইয়ের পর থেকে। সুগভীর ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে এই আন্দোলনে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে পরিচালিত সরকারকে হটানোর পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর নির্মম আক্রমণ ও হত্যাযজ্ঞ চালানো হয় এবং তাদের বাড়িঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগ চালানো হয়। যার ধারাবাহিকতা এখনো চলমান রয়েছে। এই অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকার রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস চালানোর মধ্য দিয়ে এবং তাদের প্রত্যক্ষ মদদে নিরবচ্ছিন্নভভাবে মানবাধিকারের লঙ্ঘন করা হচ্ছে। অথচ গুরুত্বপূর্ণ না হলেও প্রতিবেদনের সময়সীমার মধ্যে আন্দোলনের পূর্বের ১৪ দিন অন্তর্ভুক্ত করা হলেও সরকার হটানোর পরে ১০দিন (১৫ আগস্ট) অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে পরবর্তীতে সংঘটিত খুন, ধর্ষণসহ অন্যান্য সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড উঠে আসেনি। যা অধিকতর তদন্তের দাবি রাখে।

যদিও অবৈধ এ সরকারের পক্ষ থেকে ঢালাওভাবে বলে আসা হচ্ছিল আন্দোলনে ২ হাজারের বেশি আন্দোলনকারী নিহত হয়েছিল। অথচ এই প্রতিবেদনে উল্লিখিত সময়সীমার মধ্যে ১৪০০ জন নিহত হয়েছে। তবে তন্মধ্যে কতজন আন্দোলনকারী, কতজন আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও কতজন পুলিশ, কে কোথায় এবং কীভাবে নিহত হয়েছে তার সুস্পষ্ট উল্লেখ নাই। প্রতিবেদনে নিহতদের পেশাগত পরিচয়সহ কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি এবং সেখানে নিহতের ঘটনার কোনো ফরেনসিক প্রতিবেদনও দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে ৫ আগস্টের পর থেকে এখন পর্যন্ত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের উপর যে নিধনযজ্ঞ চলছে। সেসব ঘটনায় হতাহতের কথাও সুস্পষ্টভাবে উঠে আসেনি। তবে এ সরকার যে ভয়ের রাজত্ব কায়েম করেছে এবং তার কারণে সন্ত্রাস ও সহিংসতার শিকার হওয়া মানুষেরা ঘটনার বিবরণ দিতে সাহস করেনি। আর সেক্ষেত্রে বোঝা যায়, ভয় বা ত্রাসের রাজত্বে অধিকাংশ ঘটনাই অপ্রকাশিত রয়ে গেছে। এগুলো তুলে না আনার কারণে প্রকাশিত প্রতিবেদন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। আবার যারা হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টানসহ অন্যান্য সম্প্রদায় ও জাতি-গোষ্ঠীর গণহত্যাকারী এবং এ সকল সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িতদের দায়মুক্তি দিয়েছে এই ফ্যাসিস্ট সরকার, যদিও সেটা তুলে আনা হয়েছে।

আসলে খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার নিজেদের বৈধতা দিতে আওয়ামী লীগ সরকারের উপর দোষ চাপানোর জন্য দেশের জনগণের ট্যাক্সের টাকা দিয়ে লবিস্ট নিয়োগ করে এ রকম পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। বিভিন্ন তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে এখন দিবালোকের মতো স্পষ্ট যে, জুলাইয়ের আন্দোলন মূলত শিক্ষার্থীদের দাবি আদায়ের আন্দোলনের আড়ালে সরকার উৎখাতের আন্দোলন ছিল। আর বিএনপি-জামাত পর্দার অন্তরালে সক্রিয় ছিল। সেই কারণে আন্দোলনকারীরা জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর চেয়ে সন্ত্রাসী পন্থায় বেশি নির্ভরশীল ছিল এবং তারা গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের পাশাপাশি হত্যা ও ধ্বংসযজ্ঞে মেতে উঠেছিল। সে বিষয়ে প্রতিবেদনে কোনো বিবরণ নেই। এই সহিংস সন্ত্রাসী আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে গিয়ে পুলিশবাহিনীর সদস্যরা নিহত হয়েছে। কিন্তু নিজের জীবনের বাঁচাতে পুলিশের যে আত্মরক্ষার অধিকার আছে, সেই বয়ান প্রতিবেদনে উপেক্ষিত। জাতিসংঘের সংস্থা অফিস অব দ্য হাই কমিশনার ফর হিউম্যান রাইটস (ওএইচসিএইচআর)-এর এ ধরনের পক্ষপাতমূলক প্রতিবেদন প্রকাশ করে কোনো রাষ্ট্র বা সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার উদাহরণ আছে। এ ধরনের কাজে যুক্ত থাকার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ২০১৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রকে জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ২০২৫ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি আবারও ইউএনএইচসিআর থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। জাতিসংঘের এই ধরনের সংস্থার উপর খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট যেখানে আস্থা রাখতে পারেন না, সেই ধরনের সংস্থার উপর আমরা কীভাবে আস্থা রাখি? আমরা পক্ষপাতমূলকভাবে তৈরি করা এই প্রতিবেদন দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করছি। একইসাথে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গণতন্ত্রের মানসকন্যা জননেত্রী শেখ হাসিনাকে সরাসরি দায়ী করে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই এবং মনে করি এটি বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ধ্বংসের নীলনকশা বাস্তবায়নে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এছাড়াও সংস্থাটির প্রতি দাবি জানাচ্ছি যে, পক্ষপাতিত্ব পরিহার করে অধিতর তদন্তের মাধ্যমে একটি সুষ্ঠু, বস্তিনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ প্রতিবেদন প্রকাশ করার এবং প্রতিটি ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করার। তাতে সংস্থাটির প্রতি বাংলাদেশের জনগণের পাশাপাশি বিশ্ববাসীর আস্থা বৃদ্ধি পাবে।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

Leave a comment

Trending