https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5623148770593961

জাতীয় ডেস্ক ঃ বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক আ. ফ. ম বাহাউদ্দিন নাছিম আজ এক বিবৃতিতে বলেন, বিগত বছরের জুলাই-আগস্টে বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনারের কার্যালয়। জাতিসংঘের এই তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে মিথ্যাচার ও মনগড়া বক্তব্য দিচ্ছেন বেআইনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি)-এর বেআইনি চিফ প্রসিকিউটর, যুদ্ধাপরাধীদের আইনজীবী তাজুল ইসলাম। জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের তদন্ত প্রতিবেদনের ১১৪ পৃষ্ঠার মধ্যে কোথাও গণহত্যা বা Genocide কথা উল্লেখ নেই। জুলাই-আগস্টে যে প্রাণহানি হয়েছে তা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা প্রতিটি ঘটনার তদন্তের জন্য বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন গঠন করেছিলেন এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের আহ্বান জানিয়েছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগও এসব ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করে আসছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার সরকার উৎখাতে এসব হত্যাকাণ্ড ছিলো পূর্বপরিকল্পিত ও সূক্ষ্ম ষড়যন্ত্র। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে ক্ষেপিয়ে তুলতে ইউনূসের নেতৃত্বে বিএনপি-জামাত, উগ্র-জঙ্গিবাদী গোষ্ঠী একের পর এক হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।
জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশনের রিপোর্টে কোথাও বলা হয়নি শেখ হাসিনা মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জুলাইয়ে আগস্টের ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘন ও মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়েছে কিনা তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়। ১৬ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত ৪০০ নিহতের কথা বলা হয়েছে। যার মধ্যে পুলিশ, আওয়ামী লীগ ও আন্দোলনকারী রয়েছে। ৫ আগস্ট থেকে ১৬ আগস্ট পর্যন্ত এক হাজারের মতো মানুষকে হত্যার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যার সবই আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী, সমর্থক, পুলিশ ও সনাতন ধর্মাবলম্বীসহ অন্যান্যরা নিহত হয়েছেন। অথচ জামাতের মতাদর্শে বিশ্বাসী তাজুল ইসলাম ১৪০০ আন্দোলনকারী নিহত হয়েছে বলে প্রতিদিন সংবাদমাধ্যমের সামনে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী দল যুদ্ধাপরাধী জামাতের সঙ্গে আওয়ামী লীগকে এক পাল্লায় মাপার জন্য এসব মিথ্যা, বানোয়াট ও মনগড়া গল্প তৈরি করা হচ্ছে। জুলাই-আগস্টের ঘটনায় কারা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত নয়। বরং ঐ সময়ের ঘটনা প্রবাহকে বর্তমান অবৈধ ও অসাংবিধানিক সরকারের প্রধান ফ্যাসিস্ট ইউনূস নিজেই ম্যাটিক্যুলাস ডিজাইনড বলে আখ্যায়িত করেছেন। কিন্তু সকল হত্যাকাণ্ডের দায় আওয়ামী লীগের উপর চাপানোর জন্য গভীর চক্রান্তের অংশ হিসেবে ইউনূসের সরকার নিয়মিত মিথ্যাচার করছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে সংখ্যালঘু নির্যাতনের কথা বলা হয়েছে। তা এড়িয়ে যাচ্ছে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারী ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার। প্রতিবেদনে সুপারিশ করা হয়েছে, কোনো রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা যাবে না এবং সব দলের অংশগ্রহণে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের। এসব তথ্য আড়াল করার জন্য মিথ্যাচার করছে অবৈধ সরকারের সুবিধাভোগী বেআইনি চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম।

বিবৃতিতে আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক বলেন, জাতিসংঘের প্রতিবেদনে, ভুয়া হত্যা মামলা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কেনো পুলিশ হত্যার দায়মুক্তি দেয়া হয়েছে তা নিয়েও প্রশ্ন রেখেছে তদন্ত দল। সরকারের সরাসরি হস্তক্ষেপে এসব তথ্য সংবাদমাধ্যমে আড়াল করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের বাড়িঘরে লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, নির্যাতন ও মবের কথাও উঠে এসেছে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে। সেগুলো রক্ষায় সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ তো নাই। বরং আওয়ামী লীগের নেতার বাড়িতে হামলা হবে এই মর্মে জেলা পুলিশ সুপারের অফিস থেকে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে।

বিবৃতিতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ মনে করে, জাতিসংঘের প্রতিবেদন নিয়ে এই অবৈধ সরকার অবৈধভাবে রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করে একপেশে প্রচারণা চালাচ্ছে। এই দেশবিরোধী ও গনবিরোধী শক্তি যতই চক্রান্ত করুক না কেন আওয়ামী লীগকে জনগণের সামনে হেয় করার চক্রান্ত সফল হবে না৷ জনগণ তাদের সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেবে, ইনশাল্লাহ।

জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।

প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

Leave a comment

Trending