
জাতীয় ডেস্ক ঃ ২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বিজিবি (তৎকালীন বিডিআর)-এর সদর দপ্তর পিলখানায় ইতিহাসের মর্মন্তুদ ও ন্যক্কারজনক ঘটনা ঘটে। সেদিন সুগভীর পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর ৫৭জন চৌকস ও দক্ষ অফিসারসহ তাদের পরিবারের সদস্যদের হত্যা করা হয়। ফলে দেশ এক অস্বাভাবিক পরিস্থিতির সম্মুখীন হয় এবং গভীর সংকটে নিপতিত হতে যাচ্ছিল। দেশবিরোধী ষড়যন্ত্রকারীদের মূল লক্ষ ছিল, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার ভ্যানগার্ড দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দুর্বল করা এবং দেশকে একটা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দেওয়া। বঙ্গবন্ধু কন্যা জননেত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা স্থির চিত্তে অবিচল নেতৃত্বে প্রাজ্ঞ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশকে এই গভীর সংকট থেকে রক্ষা করেন। শুধু তা-ই নয়, তিনি এই ঘটনায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি এবং পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের মূলোৎপাটন করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ছিলেন। এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ফৌজদারি আদালতে হত্যা মামলা ও বিস্ফোরক মামলা হয় এবং বাহিনীর নিজস্ব আইনে সামারি ট্রায়ালে অন্যান্য বিচার হয়। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ়তার কারণে বিচারিক আদালত ও হাইকোর্ট হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িতদের মৃত্যুদণ্ড ও যাবজ্জীবনসহ বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। অথচ খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকার অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলের পর দেশের বিভিন্ন কারাগার থেকে জঙ্গি সংগঠনের চিহ্নিত জঙ্গি নেতা ও শীর্ষ সন্ত্রাসীদের মুক্ত করে দেয়। একইসাথে পিলখানা হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সাজাপ্রাপ্ত হত্যাকারীদেরও ছেড়ে দেয়। আমরা বরাবর হত্যাকারীদের প্রতি পক্ষপাতমূলক এই ঘৃণ্য পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে আসছি। খুনি ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের খুনি, সন্ত্রাসী ও জঙ্গিগোষ্ঠীর প্রতি এক ধরনের বিশেষ দুর্বলতা রয়েছে। ফলে তারা দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীর চৌকস ও দক্ষ অফিসারদের খুনিদেরও মুক্ত করে দেয়। যা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার অন্তরায় হিসেবে কাজ করবে এবং ইতিহাসে কলঙ্কজনক অধ্যায়ের সৃষ্টি করেছে। পাশাপাশি শহিদ সেনা সদস্যদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার অধিকারকে ভূ-লুণ্ঠিত করেছে। আমরা বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে দৃঢ়ভাবে বলতে চাই, অবৈধ দখলদার ফ্যাসিস্ট ইউনূস সরকারের পদক্ষেপের কারণে ছাড় পাওয়া এ সকল হত্যাকারীদের ভবিষ্যতে বিচারের আওতায় আনা হবে এবং যারা এহেন কলঙ্কিত ঘটনার জন্ম দিয়েছে তাদেরকেও বিচারের আওতায় আনা হবে। পিলখানা হত্যাকাণ্ডে সেনাবাহিনীর শহিদ কর্মকর্তাদের প্রতি আমরা হৃদয়ের অন্তস্থল থেকে গভীর শ্রদ্ধা জানাই এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।
জয় বাংলা
জয় বঙ্গবন্ধু
বাংলাদেশ চিরজীবী হোক।
প্রেস বিজ্ঞপ্তি
তারিখ: ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫

Leave a comment