https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5623148770593961

জাতীয় ডেস্ক ঃ আজ বাঙালি জাতির অভিসংবাদিত নেতা , বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠাতা, কালজয়ী মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ১০৫ তম জন্ম দিন।এ উপলক্ষে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ও তার অংগসংগঠন সমূহ দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন‍্য দেশ ও প্রবাসে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহন করেছে ।কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে , জাতির জনকের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মিলাদ ,দোয়া মাহফিল ও আলোচনা সভা ।

জার্মান দার্শনিক জর্জ উলিয়াম ফ্রেডরিখ হেগেলের ভাষায়: “মানুষের সর্বশ্রেষ্ঠ কাজ হচ্ছে রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা”
বাঙ্গালী জাতিব জন্য এই কাজটি করেছিলেন ইতিহাসের মহানায়ক বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা জাতির জনক বঙ্গবন্ধু বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

দেখতে দেখতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আরেকটি জন্মদিন চলে এল। ১০৫ বছর আগে ১৯২০ সালের এই দিনে স্বাধীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দ্রষ্টা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্ম হয়েছিলো গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। গত বছরের এই দিনেও কি আমরা জানতাম যে বাংলাদেশকে আবারো হায়েনাদের হাত থেকে রক্ষা করবার জন্য ফিরে যেতে হবে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে, উজ্জীবিত হবার জন্য বার বার শুনতে হবে তাঁর বক্তৃতা!

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে বাংলাদেশে মৌলবাদী শক্তির উত্থান ঘটেছে। বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী জামাত-ই-ইসলামী ও হিজবুত তাহরীর-এর মত জঙ্গীগোষ্ঠির সমর্থনপুষ্ট ইউনুস সরকার হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে সম্পূর্ণ মুছে ফেলার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। বর্তমান অসাংবিধানিক ও অবৈধ সরকার নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ ও ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সঠিক ইতিহাস জানতে দেবেনা। নতুন প্রজন্মের জানা প্রয়োজন যে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আমাদের দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবাদের চেতনাকে জাগ্রত করে। তিনি আমাদের শিখিয়েছেন কীভাবে দেশের জন্য নিঃস্বার্থভাবে কাজ করতে হয় এবং দেশের স্বার্থকে সবার ঊর্ধ্বে রাখতে হয়।
বঙ্গবন্ধু আমৃত্যু গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের প্রতি অবিচল ছিলেন। তাঁর কাছ থেকেই আমরা শিখেছি যে কীভাবে জনগণের অধিকার রক্ষা করতে হয় এবং একটি গণতান্ত্রিক সমাজ গড়ে তুলতে হয়। জনগনের অধিকার রক্ষায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তাঁর রাজনৈতিক জীবনে সর্বমোট ৪,৬৮২ দিন কারাভোগ করেন। এর মধ্যে: স্কুলের ছাত্র অবস্থায় ব্রিটিশ আমলে সাত দিন কারাভোগ করেন এবং বাকি ৪,৬৭৫ দিন তিনি কারাভোগ করেন পাকিস্তান সরকারের আমলে।জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান রাজনৈতিক আন্দোলন, ভাষার অধিকারের জন্য আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা ও ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা ঘোষণার পর গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন। জাতির পিতার এই ইতিহাস আমাদের জানা না থাকলে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে। আমাদের মনে রাখতে হবে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক জীবনে কারাবরণ একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ ছিল। তিনি জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য নিজের জীবনকে উৎসর্গ করেছিলেন।
বঙ্গবন্ধু মানুষকে ভালোবাসতেন। তার ‘অসমাপ্ত আত্মজীবনী’ বইটির প্রথমেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ব্যক্তিগত নোট বইয়ের একটি উদ্ধৃতি রয়েছে, যা তিনি ১৯৭৩ সালের ৩০ মে লিখেছিলেন। নোট বইতে তিনি লিখেছিলেন –
“‘একজন মানুষ হিসেবে সমগ্র মানবজাতি নিয়েই আমি ভাবি। একজন বাঙালি হিসেবে যা কিছু বাঙালিদের সঙ্গে সম্পর্কিত তাই আমাকে গভীরভাবে ভাবায়। এই নিরন্তর সম্পৃক্তির উৎস ভালোবাসা, অক্ষয় ভালোবাসা, যে ভালোবাসা আমার রাজনীতি এবং অস্তিত্বকে অর্থবহ করে তোলে।”
এই উদ্ধৃতিটি থেকেই বোঝা যায় কেন তিনি বাঙ্গালী জাতির অবিসংবাদিত নেতা হতে পেরেছিলেন। প্রখ্যাত গবেষক অধ্যাপিকা রওনক জাহান বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা বিশ্লেষণ করে বলেছেন, “পৃথিবীর অন্য নেতাদের ভাষণ আমি যখন পড়ি এবং তাদের ভাষণের সঙ্গে যখন বঙ্গবন্ধুর ভাষণের তুলনা করি তখন আমার কাছে তার এই অভিব্যক্তিটি ‘জনগণের প্রতি ভালোবাসা’ তা অনন্য বলে মনে হয়।”
বঙ্গবন্ধু সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার জন্য সংগ্রাম করেছেন এবং তিনি ছিলেন অসাম্প্রদায়িক চেতনার মূর্ত প্রতীক। তিনি ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের সমান অধিকারের কথা বলেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর স্বাধীনতা বিরোধিদের উত্থানের ফলে বাংলাদেশের আইন-শৃংখলা ও মানবাধিকার পরিস্থিতির এতটাই অবনতি হয়েছে যে, কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহর কবিতায় বলতে হয় – “জাতির পতাকা আজ খামচে ধরেছে সেই পুরনো শকুন”। গত ছয় মাসে প্রায় ২ লক্ষ লোককে মিথ্যা মামলায় আটক করা হয়েছে, ‘মব’ নাটক সাজিয়ে হাজারো মানুষকে মেরে ফেলা হয়েছে, এবং লক্ষাধিক লোকের বাড়িঘর – দোকানপাট ভাংচুর করা হয়েছে। আইন ও শালিশ কেন্দ্রের প্রতিবেদনঅনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম দুই মাসে ৮৫টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে, যার মধ্যে গণধর্ষণের ঘটনা ৩৪টি। নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যে দাম আজ আকাশ-ছোঁয়া। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিবেদনঅনুযায়ী সংখ্যালঘু নির্যাতন ও তাদের উপসনালয়সহ বিভিন্ন স্থাপনা ধ্বংস করার ঘটনা ঘটেছে প্রায় ২৩০০টি। বাংলাদেশের মানুষ আজ কোন দেশে বসবাস করছে?
পাকিস্তান সরকার বঙ্গবন্ধুকে অবদমিত করার এবং তাঁর কন্ঠকে অবরুদ্ধ করার কোনো প্রচেষ্টাই বাদ রাখেনি। তারপরেও কি পাকিস্তানের সামরিক জান্তা পেরেছে? ইতিহাস সাক্ষী আছে – তারা পারেনি। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হত্যা করার মাধ্যমে খুনী – ষড়যন্ত্রকারীরা চেয়েছিলো বাঙ্গালীদের চেতনা থেকে বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে মুছে ফেলবে। তারাও পারেনি। জাতির পিতার ভালোবাসা, স্নেহ ও তাঁর আদর্শ ছড়িয়ে রয়েছে আমাদের শিরায় উপ-শিরায়, রন্ধ্রে রন্ধ্রে। তাঁকে মুছে ফেলা সহজ নয়।
পাকিস্তান সমর্থক রাজাকার, আল-বদর, আল-শামসের প্রেতাত্মারা আবার ফিরে এসেছে বাংলাদেশে। বর্তমান সরকার প্রধান ইউনুস তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। মিথ্যা মামলার ভয়ে অনেকেই আজ দেশছাড়া, নিজের ঘর ও পরিবার ছেড়ে অসহায় অবস্থায় দিনযাপন করছেন। এই সংকটকালীণ সময়ে আমাদের সবার বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণ থেকে অনুপ্রেরণা নিতে হবে – আমাদের মনে রাখতে হবে – “এবারের সংগ্রাম, স্বাধীনতার সংগ্রাম”, বাংলাদেশকে রাজকার-জঙ্গী মুক্ত করতে হবে। বঙ্গবন্ধুর অসাম্প্রদায়িক সোনার বাংলা গড়ে তুলতে হলে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে নিজেদের উজ্জীবিত করতে হবে। মনে রাখতে হবে কারাগারে থেকেও বঙ্গবন্ধু কখনো হতাশ হননি। নিজের জীবনের হুমকি উপেক্ষা করেও তিনি বাংলার মানুষের জন্য কাজ করে গিয়েছেন, প্রতিহিংসা নয় ভালোবাসা বিলিয়ে গিয়েছেন। তাই আসুন আজকের এই দিনে দ্বিধাহীন চিত্তে বঙ্গবন্ধুর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে ‘ভয়শূন্য’ ভাবে রুখে দাঁড়াই স্বাধীনতাবিরোধী সেই ‘পুরানো শকুনের’ বিরুদ্ধে।

সৌজন্যে ঃ

লেখক:
মিজানুর হক খান
সভাপতি জার্মান আওয়ামী লীগ

Leave a comment

Trending