
সিলেট সাদাপাথর লুট বন্ধে দায়িত্বে গাফিলতির কারনে দুদকের প্রতিবেদনে অভিযোগ দায়ের করা হলো চার সরকারী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ।
সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার সাদাপাথরে লুটপাটের ঘটনায় ওই উপজেলার চারজন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে (ইউএনও) অভিযুক্ত করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
তাদের বিরুদ্ধে দুদকের অভিযোগ, সাদাপাথরে লুটপাট বন্ধে তারা কার্যকর ব্যবস্থা নেননি। অভিযুক্ত চারজন গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি আগস্ট পর্যন্ত কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার দায়িত্বে ছিলেন। এরমধ্যে দুজন ওই উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে দায়িত্বরত থাকাকালে কয়েকদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত ইউএনও ছিলেন।
সাদপাথরের পাথর লুটের ঘটনায় সরেজমিনে তদন্ত শেষে ১৬ আগস্ট প্রতিবেদন জমা দেয় দুদক।
দুদকের এই প্রতিবেদনে নাম রয়েছে কোম্পানীগঞ্জের সর্বশেষ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজিজুন্নাহারের। রয়েছে গতবছরের জুলাই থেকে চলতি বছরের জানুয়ারি পর্যন্ত দায়েত্বে থাকা আবিদা সুলতানার নাম।
এছাড়া ওই উপজেলার এসিল্যান্ড হিসেবে কিছুদিনের জন্য ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে থাকা উর্মি রায় এবং মোহাম্মদ আবুল হাছনাতের বিরুদ্ধেও পাথর লুটে ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগ আনা হয়েছে।
বর্তমানে দক্ষিণ সুরমা উপজেলার ইউএনও হিসেবে থাকা ঊর্মি রায় গতবছরের ডিসেম্বরে মাত্র ৬ দিনের জন্য কোম্পানীগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত ইউএনওর দায়িত্বে ছিলেন। আর কোম্পানীগঞ্জের বর্তমান এসিল্যান্ড মোহাম্মদ আবুল হাছনাত চলতি বছরের জানুয়ারিতে ১৫ দিন ইউএনওর দায়িত্ব পালন করেন।
দুদকের প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, গত এক বছরে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় বিশেষ করে সাদাপাথর পর্যটন এলাকায় দৃশ্যমানভাবে দিনে দুপুরে উপজেলা প্রশাসনের গোচরেই উক্ত পাথর লুটপাট হয়েছে। ওই সময়ে কোম্পানীগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী অফিসার হিসাবে আজিজুন্নাহার, মোহাম্মদ আবুল হাছনাত, ঊর্মি রায় ও আবিদা সুলতানা কর্মরত ছিলেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসাররা নামমাত্র ও লোক দেখানো কিছু ব্যবস্থা গ্রহণ ছাড়া পাথর লুট বন্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে কোম্পানীগঞ্জের সদ্য বিদায়ী ইউএনও আজিজুন্নাহার সোমবার বলেন, ‘পাথর লুট ঠেকাতে সাধ্যমত চেষ্টা করেছি। লুটকারীদের সহায়তা করে একটি টাকা নিয়েছি—এটা কেউ প্রমাণ করতে পারবে না।’
গত বছরের ৫ আগস্ট সরকার পরিবর্তনের পর থেকে সাদা পাথরে ব্যাপক লুটপাট শুরু হয়। চলতি আগস্টে পাথরহীন সাদাপাথরের ছবি ও ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি হয়। এরপর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন।
গত ১৩ আগস্ট দদকের সিলেট কার্যালয়ের উপ পরিচালক রাফি মো. নাজমুস সাদাতের নেতৃত্বে একটি টিম সাদাপাথর পরিদর্শন করে। এরপর তারা ১৬ আগস্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেন।
প্রতিবেদনে সাদাপাথর লুটে বিভিন্ন সরকারী প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা মিলিয়ে ৫৩ জনের সম্পৃক্ততা পেয়েছে বলে জানিয়েছে দুদক।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাথর আত্মসাতের ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাগুলোর নিষ্ক্রিয়তা ও যোগসাজশ ছিল।
সাদাপাথর লুটের ঘটনায় ইতোমধ্যে সিলেটের জেলা প্রশাসক শের মাহবুব মুরাদকে ওএসডি ও কোম্পানীগঞ্জের ইউএনও আজিজুন্নাহারকে বদলি করা হয়েছে।

Leave a comment