https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5623148770593961

লন্ডন প্রতিনিধি ঃ গ্লোবাল বাংলাদেশী ইউনিটি নেটওয়ার্ক (GBUN) গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছে যে বাংলাদেশে বর্তমানে দেশব্যাপী একটি ভয়াবহ সংকটের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করছে।

সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, আইনের অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা দেশের গণতান্ত্রিক ও সামাজিক পরিবেশকে গুরুতরভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। আমরা লক্ষ্য করছি দেশব্যাপী জাতির সূর্যসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধা, প্রথিতযশা বিচারপতি, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ, খ্যাতিমান অর্থনীতিবিদ, বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য, প্রগতিশীল শিল্পী, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ও মুক্তচিন্তার মানুষসহ সমাজের বিভিন্ন স্তরের নাগরিক অন্যায়ভাবে গ্রেপ্তার, মামলা ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনা কেবল ব্যক্তিগত ক্ষতিই নয়, বরং বাংলাদেশের সামগ্রিক বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্যও বড় ধরনের হুমকি সৃষ্টি করছে।GBUN দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, ন্যায়বিচার, মানবাধিকার ও অংশগ্রহণমূলক গণতন্ত্রই একটি দেশের টেকসই উন্নয়ন ও স্থিতিশীলতার প্রধান ভিত্তি। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় প্রতিবন্ধকতা রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে দুর্বল করে এবং নাগরিকদের অনিশ্চয়তা ও অস্থিরতার মধ্যে ঠেলে দেয়।

বাংলাদেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। নারী, শিশু ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়সহ সমাজের দুর্বল জনগোষ্ঠী নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। একই সঙ্গে সংবাদমাধ্যম ও

মতপ্রকাশের স্বাধীনতায় বিধিনিষেধ গণতান্ত্রিক বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করছে। অন্যায়ভাবে দেশব্যাপী গ্রেপ্তার ও মামলার শিকার বিশিষ্টজনদের মধ্যে রয়েছেন: সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হক। বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক পাট ও বস্ত্র, ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সাবেক বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। সাবেক সচিব ও সাবেক প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি), বীর মুক্তিযোদ্ধা কে এম নূরুল হুদা। কৃষি অর্থনীতিবিদ ও পরিকল্পনা কমিশনের প্রাক্তন সদস্য ও সাবেক পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম। বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও কনফেডারেশন অব মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনস ইন এশিয়া অ্যান্ড ওশানিয়ার (CMAAO)-এর সাবেক সভাপতি, সাবেক  সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের সাবেক ডিন, ব্যাংকিং অ্যান্ড ইনস্যুরেন্স বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সাবেক  সাধারণ সম্পাদক ও বিএসইসি’র সাবেক চেয়ারম্যান প্রফেসর শিবলী রুবায়াত-উল-ইসলাম। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ও বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস-এর সাবেক উপাচার্য এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য ও প্রখ্যাত রসায়নবিদ প্রফেসর আব্দুস সাত্তার। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ও বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের (পিএসসি) সাবেক সদস্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আনোয়ারা বেগম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা প্রফেসর আবুল বারকাত। মুক্তচিন্তা ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম সংগঠক, স্বনামধন্য চারুশিল্পী কামাল পাশা চৌধুরী। সাংবাদিক শাহরিয়ার কবির। শ্যামল দত্ত। মোজাম্মেল বাবু। ফারজানা রূপা। শাকিল আহমেদ। আরিফ হাসান। মনজুরুল আলম পান্না। সনাতনী হিন্দু সন্ন্যাসী চিন্ময় কৃষ্ণ দাস প্রভু। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক হাফিজুর রহমান কার্জনসহ আরও অনেকে।

জাতির আলোকবর্তিকা বীর মুক্তিযোদ্ধা, বিচারপতি, শিক্ষাবিদ, গবেষক, আইনজীবী ও শিল্পীদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে প্রতীয়মান হয়। এটি কেবল কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে নয়; বরং জাতির বুদ্ধিবৃত্তিক স্বাধীনতার ওপর একটি গুরুতর আঘাত, যা আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা ও ন্যায়ের মৌলিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ। আমাদের মূল দাবি:

মানবাধিকার লঙ্ঘনের প্রতিটি ঘটনার নিরপেক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন তদন্ত নিশ্চিত করতে হবে।

সকল শিক্ষাবিদ, গবেষক, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বকে অবিলম্বে মুক্তি দিতে হবে।

রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা, গ্রেপ্তার ও হয়রানি অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে।

সংবিধানপ্রদত্ত মৌলিক অধিকার, বিশেষ করে মতপ্রকাশ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কার্যকরভাবে নিশ্চিত করতে হবে।

আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসনের নিরপেক্ষতা অবশ্যই প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা নিশ্চিত করে বিচারহীনতার সংস্কৃতি বন্ধ করতে হবে।

নারী, শিশু, সংখ্যালঘু ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

রাজনৈতিক সহনশীলতা, গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি ও সংলাপের পরিবেশ জোরদার করতে হবে।

GBUN জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, বিশ্বসমাজ, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রসমূহ এবং বৈশ্বিক সম্প্রদায়ের শীর্ষ নেতৃবৃন্দসহ বাংলাদেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে—বাংলাদেশের গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও আইনের শাসন রক্ষায় গঠনমূলক ভূমিকা পালন করুন। রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও বিভেদ নয়, বরং গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, সহনশীলতা ও সংলাপের মাধ্যমে অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক পরিবেশ। GBUN বিশ্বাস করে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনা অক্ষুণ্ণ রাখা আমাদের সবার দায়িত্ব। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা ও গণতান্ত্রিক  অংশগ্রহণই জাতিকে টেকসই অগ্রগতির পথে এগিয়ে নিতে পারে।বিবৃতিতে স্বাক্ষর করেন গ্লোবাল বাংলাদেশী ইউনিটি নেটওয়ার্ক এর প্রায় তিন শতাধিক নেতাকর্মী ।

Leave a comment

Trending