
সিলেট প্রতিনিধি ঃ ৫ ইসলামী ব্যাংককে একীভূত করে দেশের সবচেয়ে বড় ব্যাংক গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। আমানতকারীদের সুরক্ষায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একটি বিশেষ পেমেন্ট স্কিম প্রণয়ন করছে।কিন্তু এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় আমানত কারীদের কোন সুস্পস্ট সুরক্ষা নেই বলে গ্রাহকরা অভিযোগ করেছেন । এই ব্যাংক গুলিতে প্রবাসে থাকা গ্রাহকদের কোটি কোটি টাকার মেয়াদী আমানত রয়েছে যে গুলো প্রাপ্তির নিশ্চয়তার বিষয়ে কিছুই উল্লেখ করা হয় নি ।তাই এই মেয়াদী আমানত কারীরা যাতে তাদের আমানত এক সাথে পরিশোধ করতে না পারলে ও সরকার কিংবা ব্যাংক গুলি যাতে বন্ড ও সন্চয় পত্রের মাধ্যমে এককালীন বিনোয়োগ সুবিধার ব্যবস্হা করে তারা সেই অনুরোধ করেছেন । এতে বিনোয়োগ কারীদের অর্থ ৩/৪/৫ বছরের মেয়াদে পরিশোধ করতে পারবে ব্যাংক গুলি । যার ফলে দেরী হলে ও বিনোয়োগ কারীরা তাদের পুরো আমানত ফিরে পাওয়ার নিশ্চয়তা পাবেন বলে তারা মন্তব্য করেন ।
সিলেটের একজন গ্রাহক আমাদের প্রতিনিধির সাথে এই বিষয়ে কথা হলে তিনি জানান, সিলেটের দুটি ব্যাংকে তার কোটি টাকা ও উপরে মেয়াদী আমানত রয়েছে । এ বিষয়ে সরকারের ২লক্ষ টাকা ফেরত নিশ্চয়তার সিদ্ধান্ত নেতিবাচক বলে মন্তব্য করেন কারন যাদের ছোট আমানত রয়েছে তাদের সময়্যা না হলে ও বড় আমানতকারীরা কিভাবে তাদের আমানত ফেরত পাবেন সে বিষয়ে কোন সুপস্ট দিক নির্দেশনা নেই কিন্তু সেটা থাকা উচিত ছিলো । তিনি আর ও বলেন ঐ সব ইসলামী ব্যাংক সমূহে বেশি ভাগ গ্রাহকরাই বড় আমানতকারী এবং প্রবাসে বসবাস করে থাকেন । সুতরাং তারা যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হন সেটি ও মাথায় রেখে সরকারের পরিকল্পনা করা উচিত ।তিনি আর ও বলেন , মার্জার কৃত ব্যাংক গ্রাহকের মেয়াদী আমানতে হিসেবের বিপক্ষে নতুন ব্যাংকে নতুন মেয়াদী আমানত হিসেব খুলে হিসাব সমূহ স্হানান্তর করতে হবে । স্হায়ী কিংবা মেয়াদী আমানত ভেঙ্গে চলতি কিংবা সন্চয়ী আমানত হিসেবে স্হানান্তর ব্যাংক কোম্পানি আইনের পরিপন্থী। এটি গ্রাহকের আর্থিক অধিকারকে ক্ষুণ্ণ করবে।এ বিষয়ে সরকারকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্হা গ্রহন করতে তিনি অনুরোধ জানান ।
উল্লেখ্য,বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত হতে যাওয়া ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে ১ লাখ ৫২ হাজার কোটি টাকার আমানত রয়েছে। এর বিপরীতে প্রদত্ত ঋণ ছাড়িয়েছে ২ লাখ কোটি টাকা। মোট আমানতের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ (৪৬ হাজার কোটি টাকা) ব্যক্তি আমানতকারীদের। বাকিটা প্রাতিষ্ঠানিক আমানতকেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরিকল্পনা অনুযায়ী, ব্যক্তি আমানতকারীদের ফেরত প্রদানের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ২ লাখ টাকার মধ্যে আমানত থাকলে তা বীমার আওতায় দ্রুত ফেরত দেওয়া হবে। ২ লাখ টাকার বেশি হলে ধাপে ধাপে ফেরত দেওয়া হবে। তবে এর সময়সীমা এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
একীভূতকরণের সময়ে আমানতকারীরা ৪ শতাংশ হারে রিটার্ন পেতে পারেন, তবে বিদ্যমান সব আমানত স্কিম বাতিল হয়ে যাবে। একজন আমানতকারীর একাধিক ব্যাংকে হিসাব থাকলেও তা একটি হিসেবে গণনা করা হবে এবং সর্বোচ্চ বীমা সীমা ২ লাখ টাকার মধ্যেই থাকবে।

Leave a comment