
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ঃ বাংলাদেশ প্রেসক্লাব নিউইয়র্কের গতকালকের অনুষ্ঠানে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারন করা সুলতানা রহমানের সাথে জুলাই আন্দোলনে নেতৃত্ব দেয়া সাংবাদিকের মধ্যে কয়েক দফা তুমুল তর্ক ও হৈ-হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে।
সভায় ঢাকার সাবেক সাংবাদিক সুলতানা রহমানের বক্তব্য প্রদানকালে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। তার বক্তব্যে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন উপস্থিত অনেকেই। এসময় তার সাথে আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠতা ও আওয়ামীলীগের সাথে আঁতাত করে সাংবাদিকতার অভিযোগে ঢাকার বেশ কয়েকজন সাংবাদিককের তোপের মুখে পড়েন তিনি। একপর্যায়ে সভায় তর্ক-বিতর্ক ও হৈচৈ শুরু হয়, যা দীর্ঘ সময় ধরে চলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে সাংবাদিক ছাড়াও বহিরাগত দুই/একজন সুলতানাকে স্বৈরাচার আওয়ামী লীগের দোষর বলে বার বার আক্রমণ করে। এর মধ্যে একজন নিজেকে জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচয় দিলেও জানা যায় সেই ব্যক্তি জামায়াতে ইসলামের সমর্থক।
গতকাল ২৪ সেপ্টেম্বর সন্ধায় নিউইয়র্ক বাংলাদেশে প্রেসক্লাব ‘বাংলাদেশ থেকে আগত সকল ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়া কর্মীদের সাথে মতবিনিময়’ সভার আয়োজন করে। এতে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ও সভা সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মমিনুল ইসলাম মজুমদার। অনুষ্ঠানে ঢাকা থেকে আগত সাংবাদিকরা বক্তব্য দেয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের মধ্য বক্তব্য দেন অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য গিয়াস আহমেদ। স্থানীয় সাংবাদিকদের মধ্যে সাপ্তাহিক আজকাল সম্পাদক শাহনেওয়াজ, এনটিভি যুক্তরাষ্ট্র প্রতিনিধি ফরিদ আলম ,সৈয়দ খসরু,আবিদুর রহমান,মাহমুদ খান তাসের,তামান্না মৌ, ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লীডার এট লার্জ এটর্নী মঈন চৌধুরীপ্রমূখ।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন সাংবাদিক বলেন, নিউইয়র্ক বাংলাদেশে প্রেসক্লাবের সদস্য সুলতানা রহমানের বক্তব্যের সময় উপস্থিত একজন ব্যক্তি (মাহমুদ) বার বার তাকে ‘স্বৈরাচারের দোষর’ আক্রমণ করতে থাকেন।
এমন সময় সংগঠনের সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম মাহমুদকে থামিয়ে দিয়ে বলেন, ‘এখানে সবাই ভালা বক্তা। কিন্ত অনুষ্ঠানের স্বার্থে এখান যাই বলুক, সঠিক বলূক বেঠিক বলুক সবাইকে বলার স্বাধীনতা দিতে হবে।
তখন আবার জুলাই যোদ্ধা হিসেবে পরিচয়দানকারী মাহমুদ কিছু বলতে ধরলে, সভাপতি বার বার বললে থাকেন নো প্লিজ নো প্লিাজ।..। যদি আমাদের কারো বক্তব্য পছন্দ না হয়,ইউ কাম ওয়াক আউট। বাট শুনেন, আপনার যদি বলার কিছু থাকে আপনি বলবেন।
সুলতানা রহমান আবার তার বক্তব্য দিতে গিয়ে বলেন, আমার মনে আজকে এখানে আলোচনা করা উচিত ছিল,বাংলাদেশে আড়াই শত সাংবাদিকদের উপর হত্যা মামলা। আপনারা সবাই জানেন সাংবাদিকরা হত্যা করে না,। তাদের কোন বিচার হচ্ছে না। আমি অত্যন্ত তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি ।“
একথা বলার সাথে সাথেই সুলতানাকে লক্ষ্য করে ঢাকা থেকে আগত একজন সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়,আপনি প্রথম থেকেই ফ্যাসিষ্টদের পক্ষে পোষ্ট করেন। পলাতক ফ্যাসিষ্টদের পক্ষে সোসালমিডিয়ায় পোষ্ট করেন।…আপনি সাংবাদিক নামের কলঙ্ক। আপনি সজিব ওয়াজদের টাকা খেয়ে দালালী করছেন,,আপনি জুলাই গণঅভ্ভুত্থানের বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন..।
এসময় সভাপতিকে দেখা যায় একজন ব্যক্তিকে ধরে পিছনে বসিয়ে দেন। সন্ধানের এই প্রতিবেদক প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে ফোন করে তাকে আপনারা চেনেন কি না ? তারা জানান যে. তাকে চেনেন না বা জানেন না । তা হলে সেই ব্যক্তি কি ভাবে আপনারদের অনুষ্ঠানে আসলো ? এমন প্রশ্ন করায় তারা জানায়,তিনি সম্ভবত এখানে কোন রাজনৈতিক ব্যক্তির সাথে এসেছেন।
এসময় একজন সাংবাদিককে বলতে শোনা যায়. হ্যালো ভাই আপনি কে ? এটা প্রেসক্লাবের প্রোগ্রাম , হু আর ইউ ? গেট আউট ফ্রম হিয়ার। এর উত্তরে ওই বলেন, আমি একজন জুলাই যোদ্ধা।
সুলতানা রহমানকে যখন বিভিন্ন কথা বলে আক্রমণ করা হচ্ছিল,তখন সভার সভাপতি বলেন, ‘সুলতানা আপা আমাদের ক্লাবের একজন সিনিয়র মেম্বর। আপনি অপমান করে কথা বলা বরদাস্ত করবো না। আপনি যত পাওয়ার ফুল হন..। এখানে কেউ সাংবাদিক ছাড়া কেউ থেকে থাকেন, আমি হাম্বল রিকয়েস্ক করছি আপনি / আপনারা এখান থেকে বের হয়ে যান। ইয়েস বির্তক থাকবে.। জসিম জুলাই আন্দোলনের একজন সংগঠক, তার লাগতেই পারে। সুলতানা আপা একটি চেতনায় একটি মতামতকে ধারণ করে সে বলতেই পারে। লেট দেম সে,আমরা এখানে মতবিনিময় করছি। আমাদের কি সহনশীলতা নেই। আমরা কি সস্তা পলিটিক্যাল পার্টির মতন? আবার হৈ-হট্টগোল শুরু হয়। তখন সভাপতিকে বলতে শোনা যায়, আমি সভাপতি আমার অনুমতী ছাড়া কথা বলতে আই উইল গেট আউট ফ্রম হিয়ার।’
সুলতানা বক্তব্যের শেষে বলেন, আমি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করি.সে জন্য কেউ যদি আমাকে সেটার জন্য আমাকে ফ্যাশিষ্ট বলা হয়, আই এ্যাম প্রাউডফুলি ফ্যাসিজম।’ এ সময় প্রেসক্লাবে সদস্য মাহমুদ খান তাসের সুলতানাকে বক্তব্য দিত বাধা দিতে গেলে সভাপতি তাসের খানকে উদ্দেশ্য করে বার বার বলতে থাকেন,তাসের ভাই নো-নো।’
এর পর সংগঠনের সভাপতি ঢাকা থেকে আগত সাংবাদিকদের তাদের মতামত প্রকাশ করার আহ্ববান জানান।
এমন অপ্রীতিকর ঘটনার জন্য ক্ষোভ প্রকাশ করে উপস্থিত একজন সাংবাদিক বলেন,‘কে বা কারা সাংবাদিককে অপদস্থ করার জন্যই পরিকল্পনা করে এই লোককে ভাড়াটিয়া হিসেবে এনেছে।’ জানা যায় তার নাম মাহাবুব, অনুষ্ঠানের শেষের দিকে তিনি জামায়েতে আমিরের গণসংবধর্না অনুষ্ঠানে সবাইকে আমন্ত্রণ জানান।’
সাংবাদিকদের অনুষ্ঠানে বহিরাগতদের উপস্থিতি ও অনুষ্ঠানকে কালিমাযুক্ত করায় সাংবাদিক বেশ কয়েকজন মর্মাহত হয়েছেনরকরেছেন। অচেনা-অজানা এমন কাউকে অনুষ্ঠানে থাকতে দিয়ে, অনুষ্ঠানকে প্রশ্নবিদ্ধ করা আয়োজকদের ঠিক হয় নাই তারা মতপ্রকাশ করেন।
এদিকে গতকালের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সুলতানা রহমান তার ইউটিউবে নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের শক্তি দাবি করে বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাস করার জন্য কেউ যদি আমাকে ফ্যাসিস্ট বলে বলুক। আমি প্রাউড করি ফ্যাসিস্ট হতে পেরে। হেনস্তার ঘটনায় সুলতানা রহমান বলেন আমার উপর মৌখিক মব সৃষ্টি করা হয়েছে। আমার কন্ঠস্বর বন্ধ করার চেষ্টা করছে। নিউইয়র্কের মতো জায়গায় কথা বলতে পারছিনা, তাহলে বাংলাদেশে মত প্রকাশের স্বাধিনতা কতটা সংকুচিত তা সহজেই অনুমেয় । “
সৌজন্য ঃ খবর২৪.কম ।

Leave a comment