
নিউইয়র্ক প্রতিনিধি ঃ যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের বর্তমান কমিটিতে অসাংগঠনিক উপায়ে নিয়োগ ও পদায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তুলপাড় শুরু হয়েছে ।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিন্দা ও সমালোচনা ঝড় শুরু হয় মুলতঃ যুক্তরাষ্ট্র স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সিনিয়র সহ সভাপতি এবং বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কমিটিতে অসাংগঠনিক নিয়মে সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নিয়োগ পাওয়া দুরুদ মিয়া রনেল ও ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হাসানের ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে ।

উল্লেখ্য জনাব দুরুদ মিয়া রনেল সহ আর ও প্রায় অর্ধ শতাধিক নেতা কর্মী যারা বিভিন্ন অংগ সংগঠনের কমিটিতে ছিলেন তাদেরকে যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমান ২০২৩ সালে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার যুক্তরাষ্ট্রে জাতি সংঘের অধিবেশনে যোগদানের পর শুন্য পদ পুরনের নামে সিনিয়র নেতৃবৃন্দকে সুপারচিট করে নিয়োগ প্রদান ও পদায়ন করেন ।সে সময় জনাব দুরুদ মিয়া রনেল সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নিয়োগ পান । গত রবিবার জনাব দুরুদ মিয়া রনেল তার নিজ আইডিতে তিনি যুগ্ম-সম্পাদক হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মর্মে একটি পোস্ট করেন এবং সাথে ড. সিদ্দিকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক জনাব আব্দুস সামাদ আজাদ স্বাক্ষরিত চিটি তার পোস্টে টেগ করেন । আর তাতেই শুরু হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা সমালোচনা ও নিন্দার ঝড় ।
যুক্তরাষ্ট্র শ্রমিকলীগের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জুয়েল আহমেদ ড. সিদ্দিকুর রহমানের অসাংগঠনিক নিয়োগ ও পদায়নের প্রতিবাদে তার ফেসবুক আইডিতে একটি পোস্ট করেন । সেই পোস্টটি মূহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় এবং তাতে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের নেতা-কর্মীরা ড. সিদ্দিকুর রহমানের এরকম অসাংগঠনিক কার্যক্রমের বিরুদ্ধে শত শত কমেন্ট করতে থাকেন । কানেকটিকা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন আহমেদ চৌধুরী তার কমেন্টে একটি গাদার ছবি দিয়ে কমেন্টে লিখেন , যে কোন সময় যে কোন স্হানে আমরা গাদার সার্টিফিকেট দিয়ে থাকি , শুধু জায়গামত হাদিয়া পাঠান “। যুক্তরাষ্ট্র যুবলীগ নেতা শাহ সেলিম তার কমেন্টে লিখেছেন, ফারা খেতা ১০ টাকা বাছিয়া নেন দেখিয়া নেন দাম মাত্র ১০ টাকা , যুবলীগ নেতা ফাহিম আহমেদ লিখেছেন , এই দূর্দিনে ও কাউয়া কে ময়ুর বানানোর চেস্টা চলছে ।যুবলীগ নেতা পংকজ তালুকদার লিখেন , ড. সিদ্দিকুর রহমান আর কত নিচে নামবেন গত ১৫ বছর শুধু আবিষ্কার আর বহিংস্কার করলেন শুধু বাকি আছে কুকুর বিড়ালের নাম কমিটিতে দেওয়া ।একই সময়ে ড. সিদ্দিকুর রহমানের এই অসাংগঠনিক নিয়োগের প্রতিবাদ জানিয়ে ফেসবুকে আরেকটি পোস্ট করেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সিনিয়র নেতা আব্দুল হাসিব মামুন । তার এই পোস্ট ও মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের কমেন্ট ও শেয়ারের মাধ্যমে । তার পোস্টে কমেন্টে সিলেট জেলা যুবলীগের সাবেক সভাপতি যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সিনিয়র নেতা জনাব গোলাম রব্বানী চৌধুরী লিখেন , উনাব ড. সিদ্দিকুর রহমানের যদি সাহস থাকতো তাহলে উনি নিজের পদ থেকে পদত্যাগ করে দলীয় সভাপতির সাথে কথা বলে একটি সুন্দর কমিটি উপহার দিতে পারতেন কিন্তু গত ১৪ বছর তিনি পদ আকড়ে ধরে আছেন তাতে মনে হয় ডাল কুচ মে কালা হায় “ নিউইয়র্ক স্টেট আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি ও শেখ হাসিনা স্বদেশ প্রত্যাবর্তন সংগ্রাম পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সদস্য সচিব শেখ আতিকুল ইসলাম তার কমেন্টে লিখেছেন , বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কমিটিতে যারা সবাই জিন্দাবাদ লাশ কে জীবিত আর কে মৃত বুঝার কোন উপায় নেই” ।যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সম্পাদক মন্ডলীর সদস্য এম এ করিম জাহাঙ্গীর তার কমেন্টে লিখেছেন , বর্তমান যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের কমিটিতে যা চলছে তাতে মনে হয় সবাই সভাপতি ও সিক্রেটারী পদে নিজ নিজ নাম লিখে প্রচার করা শুরু করবে । আরেক নেতা ভূইয়া হাসান তার কমেন্টে লিখেন ড. সিদ্দিকুর রহমান একটা আবর্জনা “ । যুবলীগ নেতা গোলাম রব্বানী তার কমেন্টে লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগকে বাঁচাতে হলে অতি সত্তর দলীয় সভানেত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন যাতে দালালমুক্ত হয় ।এভাবে শত শত নেতা কর্মী ড. সিদ্দিকুর রহমানের এহেন অসাংগঠনিক কর্মকাণ্ডের তীব্র সমালোচনা করে ফেসবুকে কমেন্ট করতে থাকেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামীলীগের সিনিয়র বেশ কয়েকজন নেতৃবৃন্দের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করেন আমাদের আমেরিকা প্রতিনিধি, তাকে জানানো হয় ২/৩ বছর আগে ড. সিদ্দিকুর রহমান শুন্য পদে নেতা কর্মীদের নিয়োগ দানের জন্য দলীয় হাইকমান্ডের কাছে আবেদন করেন । সে সময় দলীয় সভানেত্রী শুধু মাত্র বর্তমান কমিটিতে শুন্য পদে সিনিয়রিটির ভিত্তিতে পদায়ন ও অংগসংগঠন থেকে নিয়োগ প্রদানের নির্দেশ দেন । কিন্তু এর পরপরই জনাব সিদ্দিকুর রহমান ১০/১২ টি শুন্য পদের বিপরিতে কোন রকম কার্যকরী কমিটির সভায় আলোচনা না করে দলীয় হাইকমান্ডের অনুমোদন ছাড়াই অর্ধশতের ও বেশি পদে নিয়োগ ও পদায়ন করেন যার মধ্যে অংগসংগঠনের অনেক জুনিয়র নেতা কর্মীদের কে যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি , যুগ্ম সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নিয়োগ প্রদান করেন যার মধ্যে অনৈতিক আর্থীক লেনদেনের বিস্তর অভিযোগ উঠে আসে । এ রকম অবস্হায় সিনিয়র নেতৃবৃন্দের কমিটিতে কার্যক্রম পরিচালনা করা অনেকটা দূঃস্বাধ্য হয়ে পড়ে ।দলের চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়ে এবং যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীরা বিভিন্ন গ্রোপে বিভক্ত হয়ে সভা সমাবেশ করতে থাকেন । ঐ সব নেতৃবৃন্দ আর ও জানান , গত বছরে দেশীয় ও আন্তজার্তিক ষডযন্ত্রের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ও দলীয় সভানেত্রীকে দখলদার ইউনুস সরকার দেশত্যাগে বাধ্য কপার পর থেকে দলের এই দূর্যোগের কথা মাথায় রেখে সকল নেতাকর্মী ড. মোহাম্মাদ ইউনুস সরকারকে দেশে বিদেশে প্রতিহত করতে একযোগে দলমতের উর্ধে উঠে সবাই কাজ শুরু করেন ।কিম্তু জনাব ড. সিদ্দিকির রহমান দলের এই বিপর্যয়ের দূর্বলতাকে কাজে লাগিয়ে আবার ও নিয়োগ বানিজ্য শুরু করে দেন । তারা অভিযোগ করেন কিষের বিনিময়ে ড. সিদ্দিকির রহমান মাত্র ৬ মাস আগে যাকে সাংগঠনিক সম্প্দক পদে পদায়ন করলেন তাকে আবার ৬ মাসের মধ্যেই যুগ্ম সম্পাদক পদে পদায়ন এবং একজন ছাত্রলীগ নেতা কে সাংগঠনিক পদে নিয়োগ প্রদান করলেন ।সব শেষে নেতৃবৃন্দ আমাদের প্রতিবেদকের মাধ্যমে দলীয় সভাপতির কাছে জোড় দাবী জানিয়ে বলেন , যুক্তরাস্ট্র আওয়ামীলীগকে দালাল আর চাটুকারদের হাত থেকে রক্ষা করতে হলে অনতিবিলম্বে দলীয় শীর্ষ হাই কমান্ডের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এবং বর্তমান কমিটি ভেংগে দিয়ে সৎ ,যোগ্য ও সক্রিয় নেতা কর্মীদেরকে দিয়ে একটি পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের দাবি জানান ।
আমরা প্রতিবেদনটি অধিকতর নিরপেক্ষ ও সঠিকতা প্রমানের জন্য বেশ কিছু কমেন্টে এই প্রতিবেদনের সাথে সংযুক্ত করলাম।



Leave a comment