
। বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্মানিত গভর্নর সাম্প্রতিক একটি ঘোষনা দিয়েছেন যাতে তিনি বলেছেন , একত্রিভূত ৫ টি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকেরা তাদের জমানো আমানতের উপর গত ২৪-২৫ সালের কোন লাভাংশ পাবেন না ।এই ঘোষনার পর আবার ও একত্রিভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকদের মধ্যে লেনদেনে নতুন করে অনাস্হা সৃস্টি হয়েছে ।ঐ ৫ ব্যাংকের গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে ধর্য্য ধরে অপেক্ষা করছেন যাতে করে সরকারের মার্জার ফর্মূলায় দেরীতে হলে ও তাদের কস্টার্জিত আমানত ফেরত পেতে পাবেন ।সেখানে দীর্ঘ ২ বছর পর নতুন নামে ব্যাংক সমূহ মার্জার হওয়ার পর ও গ্রাহকরা আমানত তুলতে গিয়ে হেনস্হার স্বিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত । সরকারের আশ্বাসের সাথে বাস্তবতার কোন মিল নেই । গ্রাহকরা সরকারের ঘোষিত ২ লক্ষ টাকা তুলতে গিয়ে শাখা থেকে টাকা না পেয়ে হয়রানীর স্বিকার হয়ে ফিরে যাচ্ছেন খালি হাতে ।
অন্যদিকে এই যন্ত্রণা শেষ না হতেই গভর্নর নতুন করে আরেকটি বিতর্কিত সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিয়ে নতুন ব্যাংকের উপর গ্রাহকদের অনাস্হা সৃস্টি করছেন না তো ? সেটিই এখন সাধারন মানুষ ও গ্রাহকদের মধ্যে ব্যাপক ভাবে আলোচিত হচ্ছে । গ্রাহকরা ইতিমধ্যেই আন্দোলন শুরু করেছেন , তারা প্রতিদিন বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে মানব বন্ধন , সভা সমাবেশ করে যাচ্ছেন । কোন কোন শাখায় তালা ও ঝুলিয়ে দিচ্ছেন । গ্রাহকেরা, এই সিদ্ধান্ত থেকে সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সরে না আসলে তারা বৃহত্তর আন্দোনের ও ডাক দিবেন বলে হুসিয়ার করেছেন ।
এ রকম একটি উত্তপ্ত পরিবেশ ও পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর নতুন ব্যাংক কোম্পানী আইন প্রনয়ন ও সরকারী সকল ব্যাংক সমূহ মার্জার করে ২ টি সরকারী ব্যাংক রাখার প্রস্তাব প্রনয়নের বিষয় নিয়ে বক্তব্য প্রদান করেছেন । প্রশ্ন হচ্ছে আগের ব্যাংক সমূহের সমষ্যা সমাধান না করে , গ্রাহকদের আস্তা ব্যাংক সমূহের উপর ফেরাতে সফল না হওয়ার পর ও কেন হুট করে নতুন করে সরকারী ব্যাংক মার্জারের সিদ্ধান্ত পাবলিকলী জানিয়ে দিলেন । এতে করে কি সরকারী ব্যাংক সমূহের গ্রাহকদের মধ্যে ও অনাস্হার সৃস্টি হবে না ? গ্রাহকরা কি ভাবতে পারে না যে , তাহলে সরকারী ব্যাংক সমূহ কি লিকুইডিটি সমষ্যায় রয়েছে । এতে নতুন করে কি আরেকটি অনাস্হা কিংবা গ্রাহক অসন্তোষের সম্মুখীন হবে না সরকার কিংবা বাংলাদেশ ব্যাংক ? এই বিষয়টি নিয়ে কি সরকারের ভেবে চিন্তে আগানো উচিত ছিলোনা ?
এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ সমষ্যা নিয়ে আমি
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মহোদয়ের উদ্দেশ্যে বলতে
চাই আগের ব্যাংক কোম্পানী আইনে কি বলা রয়েছে?
এই আইনানুযায়ী বাংলাদেশ ব্যাংক হচ্ছে সকল
বানিজ্যক ব্যাংকের অভিভাবক । সকল ব্যাংক
সঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে কি না সেটি তদারকি
করবে বাংলাদেশ ব্যাংক । তাহলে ব্যাংক গুলোর
আমানত প্রাচার হলো বাংলাদেশ ব্যাংক কি দায়িত্ব
পালন করেছিলো ? বাংলাদেশ ব্যাংক কি গত ১৫
বছর বানিজ্যিক ব্যাংক সমূহ অডিট করে নি ?
ব্যাংক মালিকরা নামে বেনামে ঋন নিয়ে টাকা
প্রাচার করলো সেই অনিয়মের অডিট রিপোর্ট কি
বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে যায় নি ?নাকি এটি শুধু
রাজনৈতিক দোষারুপ ? এর দায় বাংলাদেশ
ব্যাংক কিভাবে এড়াবে ? এই আইনে আছে ব্যাংক
সমুহ গ্রাহকের টাকা চাহিবা মাত্র পরিশোধ করতে
বাধ্য । তাহলে গ্রাহক কেন টাকা তুলতে পারতেছে
না ? বাংলাদেশ ব্যাংকের দায় কিংবা গাফিলতির
কারণে লিকুইডিটি সমষ্যা হলে এর দায় কেন
গ্রাহক নিবে ?
আপনি বলেছেন ইসলামী ব্যাংক মুনাফা না করলে গ্রাহকরা মুনাফা পাবে না এটি শরিয়াহ আইন ।আপনি ঠিকই বলেছেন । ইসলামী ব্যাংকিং ও গ্রাহকদেরকে বলা হয় সাহেব আল মাল আর ব্যাংককে বলা হয় মুদার্রিব ।মুদার্রিবের গাফিলতির কারনে যদি ব্যাংক লুকসানের মূখে পড়ে তাহলে এর দায় মুদার্রিবকেই বহন করতে হয় । সেই দায় সাহেব আল মালের উপর চাপিয়ে দেওয়া যায় না ।তাছাড়াও মুনাফা কর্তন করবেন কিন্তু প্রশ্ন আসে গত ২ বছর কি গ্রাহক কে টাকা উঠাতে দিছেন ? দেন নাই , তাহলে গ্রাহকের মুনাফা কোন নৈতিকতায় কর্তন করবেন । আপনিতো গ্রাহককে স্বাভাবিকভাবে লেনদেন করতে দেন নাই ।ঐ সব ব্যাংকসমুহ লোকসান করে থাকলে গ্রাহক তার টাকা অন্য ব্যাংকে স্হানান্তর করতে পারতো কারন তার সেই স্বাধীনতা ছিলো ।কিন্তু আপনার ঐ সব ব্যাংক টাকা আটকিয়ে রেখে গ্রাহকদেরকে সেই সুযোগ থেকে বন্চিত করেছিলো ।এর দায়ভার কিংবা ক্ষতি কেন গ্রাহক বহন করবে ? এখানে গ্রাহকের তো কোন ভূল নেই কারন আপনি ঐ সব ব্যাংকের অনুমোদন দিয়েছেন দেশের জনগন যাতে ব্যাংকের মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবে লোনদেন সম্পন্ন করতে পারে ।
সব শেষে উদ্ভূত এই জটিল পরিস্থিতি থেকে লক্ষ লক্ষ গ্রাহকদেরকে মুক্ত না করে আবার ও আরেকটি নতুন সিদ্ধান্ত গ্রাহকদের উপর চাপিয়ে দিয়ে দেশের ব্যাংকিং সেক্টর ধ্বংস করতেছেন কি না সেটি ভেবে দেখতে হবে সরকারকেই ।একত্রিভূত ৫ ব্যাংকের গ্রাহকরা দেরীতে হলে ও যাতে হয়রানীর স্বীকার না হয়ে তাদের জমাকৃত আমানত মুনাফা সহ ফেরত পায় সে ব্যবস্হা সরকারকেই করতে হবে । অন্যতায় দেশের ব্যাংকিং সেক্টর সহ সামগ্রীক অর্থনীতির উপর বিরুপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হলে এর দায়ভার অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এড়াতে পারবেন না ।
লেখক ঃ
আব্দূল ওহাব জোয়ারদার
সাবেক ব্যাংকার
রাজনীতি বিশ্লেষক ও গবেষক
পিএচডি ফ্যালো
ই আইটি , সুইজারল্যান্ড

Leave a comment