
জাতীয় ডেস্ক ঃ রাজনীতির বেড়াজালে আটকে পড়া এক বাবার দীর্ঘশ্বাস আর ভাগ্যের নির্মম পরিহাসের সাক্ষী হলো দেশ। দীর্ঘ ১১ মাস ধরে কারাগারে বন্দী ছাত্রলীগের সাবেক নেতা সাদ্দাম। এরই মধ্যে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা—আজ উদ্ধার করা হয়েছে তাঁর স্ত্রী এবং ৯ মাসের শিশুসন্তানের মরদেহ। তবে শেষবারের মতো তাঁদের মুখ দেখার সুযোগটুকুও পেলেন না তিনি, মেলেনি প্যারোলে মুক্তি।
পারিবারিক ও আদালত সূত্রে জানা যায়, ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত থাকার অভিযোগে গত ১১ মাস ধরে কারাগারে রয়েছেন সাদ্দাম। যখন তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়, তখন তাঁর স্ত্রী ছিলেন ৭ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। গ্রেপ্তারের দুই মাস পর পৃথিবীর আলো দেখে তাঁর সন্তান। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম লিখন, পিতা হিসেবে সন্তানকে একবারের জন্যও কোলে তুলে নেওয়া বা ছুঁয়ে দেখার সুযোগ তাঁর হয়নি।
আইনজীবীরা জানান, সাদ্দামকে যখনই আদালতে হাজির করা হতো, তখনই তিনি বারবার আক্ষেপ করে বলতেন, “ভাই, আমার সন্তানকে এখন পর্যন্ত কোলে নিতে পারি নাই।” জেলের চারদেয়ালের ভেতর থেকেই তিনি স্বপ্ন দেখতেন একদিন মুক্তি পাবেন, সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ধরবেন। কিন্তু জামিন পেলেও জেলগেট থেকে বারবার অন্য মামলায় ‘শোন অ্যারেস্ট’ (Show Arrest) দেখানোর কারণে সেই স্বপ্ন অধরাই রয়ে গেল।
আজ সাদ্দামের স্ত্রী ও সন্তানের মরদেহ পাওয়ার খবরে শোকের ছায়া নেমে এসেছে পরিবার ও ঘনিষ্ঠজনদের মাঝে। কিন্তু আইনি জটিলতায় প্যারোল না মঞ্জুর হওয়ায় শেষ বিদায়ের সময়েও থাকতে পারলেন না তিনি। জন্মের সময় যেমন পাশে থাকতে পারেননি, তেমনি মৃত্যুর পরেও শেষবারের মতো সন্তান ও স্ত্রীকে একনজর দেখার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হলেন।
স্বজনদের অভিযোগ, কেবল রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই সাদ্দামকে এমন মানবিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই এই ঘটনাকে ‘নব্য স্বাধীন বাংলাদেশের’ বিচারব্যবস্থার প্রতি এক বড় প্রশ্নবোধক চিহ্ন হিসেবে দেখছেন।
ক্ষোভ প্রকাশ করে কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, “আজকের এই নিষ্ঠুর আচরণ আগামীর জন্য ‘ফিক্সড ডিপোজিট’ হয়ে রইল।” সাদ্দামের এই মর্মান্তিক পরিণতি রাজনীতি ও ক্ষমতার পালাবদলের ইতিহাসে একটি বেদনাদায়ক অধ্যায় হয়ে রইল। সন্তানকে একটিবার চুমু খাওয়া বা কোলে নেওয়ার যে আর্তি সাদ্দামের ছিল, তা জেলের কুঠুরিতেই গুমরে মরল চিরতরে ।
সৌজন্যে ঃ আজকের কন্ঠ

Leave a comment