
নিউইয়র্কে প্রতিনিধি ঃ সদ্য বিলুপ্ত অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে প্রায় দুই হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও চাঁদাবাজির অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) জমা পড়া এক অভিযোগের ভিত্তিতে সংস্থাটি ইতিমধ্যে অনুসন্ধান শুরু করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রভাব খাটিয়ে তিনি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনে ভাইকে গুরুত্বপূর্ণ পদে বসান এবং এর মাধ্যমে বিপুল অর্থ লুটপাট করা হয়। পাশাপাশি প্রধান উপদেষ্টার নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ে প্রভাব বিস্তার ও অনৈতিকভাবে ব্যবসা বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগও তোলা হয়েছে।
এদিকে সরকার বিলুপ্তির পর শফিকুল আলম ও উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার সিঙ্গাপুরভিত্তিক এমজিএইচ গ্রুপের অর্থায়নে প্রকাশিতব্য ইংরেজি দৈনিক ‘ডেইলি ওয়াদা’য় যোগ দেওয়ায় স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠেছে। উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলেই এমজিএইচ গ্রুপের প্রধান নির্বাহীর শতকোটি টাকার একটি মামলা প্রত্যাহার করা হয়।
দেশের গণমাধ্যম জগতে আগে ‘ডেইলি ওয়াদা’ নামে কোনো পত্রিকার অস্তিত্ব ছিল না। তবে সিঙ্গাপুরভিত্তিক বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান এমজিএইচ গ্রুপের অর্থায়নে ইংরেজি ভাষার এই নতুন দৈনিক বাজারে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। প্রতিষ্ঠানটির গ্লোবাল সিইও আনিস আহমেদ গোর্কির বিরুদ্ধে পূর্বে দায়ের করা ১৩৬ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন ও মানি লন্ডারিংয়ের একটি মামলা অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রত্যাহার করা হয়—এ তথ্য সামনে আসার পর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
দুদক সূত্র অনুযায়ী, ২০২২ সালের ২৮ ডিসেম্বর আনিস আহমেদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়। তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ২৫ মার্চ অভিযোগপত্র দাখিলের অনুমোদনও দেওয়া হয়েছিল। সে সময় দুদক জানায়, তাঁর ঘোষিত সম্পদের একটি অংশের বৈধ উৎস পাওয়া যায়নি।
তবে ২০২৪ সালের ১৫ অক্টোবর ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত মামলাটি প্রত্যাহারের আদেশ দেন। আদেশে বলা হয়, অভিযোগ চালিয়ে নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই প্রেক্ষাপটে নতুন পত্রিকা প্রকাশ ও সংশ্লিষ্ট নিয়োগ নিয়ে জনপরিসরে নানা প্রশ্ন উঠেছে। বিশ্লেষকদের মতে, পুরো বিষয়টি স্বচ্ছতা ও নৈতিকতার দিক থেকে খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
সূত্র ঃসৌজন্যে : আজকের কন্ঠ

Leave a comment