https://pagead2.googlesyndication.com/pagead/js/adsbygoogle.js?client=ca-pub-5623148770593961

ভূমিকা:

বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী ও প্রাচীন রাজনৈতিক দল। বাঙালি জাতির রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে এই দলের ভূমিকা অনন্য। ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন প্রতিষ্ঠিত এই দলটি দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভাষা আন্দোলন, স্বাধিকার আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, গণঅভ্যুত্থান, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিয়েছে। স্বাধীনতার পরও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও আধুনিক রাষ্ট্র বিনির্মাণে দলটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। ২০২৬ সালে দলটি তার ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করছে, যা বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়ের স্মারক।

প্রতিষ্ঠার পটভূমি

১৯৪৭ সালে ভারত বিভাগের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হলে পূর্ববাংলা পাকিস্তানের অংশ হিসেবে পূর্ব পাকিস্তান নামে পরিচিত হয়। কিন্তু পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই পশ্চিম পাকিস্তানের শাসকগোষ্ঠী পূর্ববাংলার জনগণের প্রতি বৈষম্যমূলক নীতি অনুসরণ করতে থাকে। রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে পূর্ববাংলার জনগণ বঞ্চনার শিকার হয়। মুসলিম লীগের একচ্ছত্র শাসন এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন না ঘটায় একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তির প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।

এই প্রেক্ষাপটে ১৯৪৯ সালের ২৩ জুন ঢাকার কে. এম. দাস লেনের রোজ গার্ডেনে “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ” প্রতিষ্ঠিত হয়। মওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানী সভাপতি, শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং তরুণ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ১৯৫৫ সালে দলটির নাম থেকে “মুসলিম” শব্দটি বাদ দিয়ে অসাম্প্রদায়িক আদর্শের ভিত্তিতে “পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ” নামকরণ করা হয়। স্বাধীনতার পর এটি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নামে পরিচিতি লাভ করে।

ভাষা আন্দোলনে অবদান

১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন ছিল বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। পাকিস্তান সরকার উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা করার সিদ্ধান্ত নিলে পূর্ববাংলার জনগণ তীব্র প্রতিবাদ জানায়। আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। দলের নেতারা বাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে আন্দোলন সংগঠিত করেন এবং ছাত্রসমাজকে অনুপ্রাণিত করেন। ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে বাঙালি জাতীয়তাবোধের উন্মেষ ঘটে এবং ভবিষ্যৎ স্বাধীনতা সংগ্রামের ভিত্তি রচিত হয়।

যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন

১৯৫৪ সালে আওয়ামী লীগ, কৃষক-শ্রমিক পার্টি এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সমন্বয়ে যুক্তফ্রন্ট গঠিত হয়। যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে বিপুল বিজয় অর্জন করে এবং মুসলিম লীগের দীর্ঘদিনের আধিপত্যের অবসান ঘটায়। এই বিজয় ছিল পূর্ববাংলার জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। তবে কেন্দ্রীয় সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই যুক্তফ্রন্ট সরকার ভেঙে দেয়, যার ফলে গণতান্ত্রিক আন্দোলন আরও বেগবান হয়।

ছয় দফা আন্দোলন ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি

১৯৬৬ সালে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ছয় দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেন। এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের জন্য স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠা এবং অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক বৈষম্য দূর করা। ছয় দফাকে বাঙালির মুক্তির সনদ বলা হয়। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে এই আন্দোলন গণমানুষের আন্দোলনে পরিণত হয় এবং পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠীর ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ে।

ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান

১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থান বাঙালির স্বাধীনতার পথে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। ছাত্রসমাজ, শ্রমিক, কৃষক ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে এই আন্দোলন ব্যাপক রূপ লাভ করে। গণআন্দোলনের মুখে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহার করা হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান “বঙ্গবন্ধু” উপাধিতে ভূষিত হন। এর মাধ্যমে আওয়ামী লীগ বাঙালি জাতির প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়।

১৯৭০ সালের নির্বাচন ও স্বাধীনতার সংগ্রাম

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ জাতীয় পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠ আসনে বিজয়ী হয়। কিন্তু পাকিস্তানের সামরিক শাসকগোষ্ঠী নির্বাচনের ফলাফল মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানায়। ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঐতিহাসিক ভাষণে স্বাধীনতার ডাক দেন। ২৫ মার্চ পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যার পর শুরু হয় মহান মুক্তিযুদ্ধ। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ বাংলাদেশ স্বাধীনতা লাভ করে।

স্বাধীন বাংলাদেশে রাষ্ট্রগঠনে ভূমিকা

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের কাজে আত্মনিয়োগ করে। ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতার ভিত্তিতে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও শিল্প খাতে বিভিন্ন উন্নয়নমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়। যদিও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধু ও তাঁর পরিবারের অধিকাংশ সদস্যকে হত্যা করা হয়, তবুও আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ধারা অব্যাহত থাকে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবদান

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ইতিহাস মূলত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্ব ও সংগ্রামের ইতিহাসের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। পাকিস্তান রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি পূর্ব বাংলার মানুষের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারের প্রশ্নে সোচ্চার ছিলেন। ১৯৪৮ সালের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২ সালের রাষ্ট্রভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৬৬ সালের ঐতিহাসিক ছয় দফা আন্দোলন এবং ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানে তাঁর অসামান্য নেতৃত্ব বাঙালি জাতিকে স্বাধীনতার পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের কারণেই বাঙালির স্বাধিকার আন্দোলন একটি স্বাধীনতা সংগ্রামে রূপ লাভ করে।

১৯৭০ সালের সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর পাকিস্তানি সামরিক জান্তা জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য করলে বঙ্গবন্ধু ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে জাতিকে মুক্তিযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত করেন। তাঁর সেই অমর আহ্বান—“এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম”—সমগ্র জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করে। ২৫ মার্চ কালরাতে পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা শুরু হলে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন এবং তাঁর নেতৃত্বে নয় মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়।

স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনে আত্মনিয়োগ করেন। তিনি ১৯৭২ সালের সংবিধান প্রণয়নের মাধ্যমে গণতন্ত্র, জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেন। কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও শিল্পায়নের মাধ্যমে একটি সুখী ও সমৃদ্ধ “সোনার বাংলা” গঠনের স্বপ্ন তিনি জাতির সামনে তুলে ধরেন। যদিও ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকদের হাতে তিনি সপরিবারে নিহত হন, তবুও তাঁর আদর্শ ও দর্শন আজও বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনা ও উন্নয়নের অন্যতম ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হয়। তাই তাঁকে যথার্থভাবেই “জাতির পিতা” এবং স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি হিসেবে অভিহিত করা হয়।

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় ভূমিকা

১৯৮১ সালে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা দলের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আওয়ামী লীগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করে এবং দীর্ঘদিনের গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম শান্তি চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সমস্যার সমাধানে ভূমিকা রাখে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়ন ও আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণ

বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একবিংশ শতাব্দীতে উন্নয়ন ও অগ্রগতির নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে তিনি আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। পরবর্তীকালে তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক, সামাজিক এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করে।

শেখ হাসিনার নেতৃত্বে “ডিজিটাল বাংলাদেশ” কর্মসূচির মাধ্যমে তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিপ্লব সাধিত হয়। ইন্টারনেট ও ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণ, মোবাইল ব্যাংকিং, ই-গভর্ন্যান্স এবং তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষা ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে বাংলাদেশ একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর রাষ্ট্রে পরিণত হওয়ার পথে অগ্রসর হয়েছে। একই সঙ্গে পদ্মা বহুমুখী সেতু, মেট্রোরেল, বঙ্গবন্ধু টানেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র, মাতারবাড়ী গভীর সমুদ্রবন্দর এবং বিভিন্ন বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রকল্প দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়নে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, নারীর ক্ষমতায়ন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতের সম্প্রসারণ, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, আশ্রয়ণ প্রকল্পের মাধ্যমে ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের পুনর্বাসন এবং দারিদ্র্য বিমোচনে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ আন্তর্জাতিক মহলেও প্রশংসিত হয়েছে। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা অর্জনের যোগ্যতা লাভ করে এবং মাথাপিছু আয়, গড় আয়ু ও মানব উন্নয়ন সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করে।

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, রোহিঙ্গা সংকটের মানবিক ব্যবস্থাপনা, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বপরিসরে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান লাভ করেছে। “রূপকল্প ২০২১”, “রূপকল্প ২০৪১” এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের লক্ষ্য বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নত, সমৃদ্ধ ও জ্ঞানভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের ইতিহাসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার স্থপতি হিসেবে জাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন এবং তাঁর কন্যা শেখ হাসিনা উন্নয়ন ও আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। ফলে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির ধারাবাহিকতায় আওয়ামী লীগের অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণ

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে একটি মর্যাদাপূর্ণ অবস্থান অর্জন করেছে। জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে অংশগ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় উদ্যোগ এবং আঞ্চলিক সহযোগিতায় সক্রিয় ভূমিকার মাধ্যমে বাংলাদেশ বিশ্বপরিসরে একটি দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে।

উপসংহার

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ৭৭ বছরের ইতিহাস মূলত বাঙালি জাতির অধিকার প্রতিষ্ঠা, স্বাধীনতা অর্জন এবং উন্নয়ন অভিযাত্রার ইতিহাস। ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ভাষা আন্দোলন, ছয় দফা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দলটির ভূমিকা ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। স্বাধীনতার পর গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং আধুনিক রাষ্ট্র নির্মাণে আওয়ামী লীগের অবদান গুরুত্বপূর্ণ। নানা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও পরিবর্তনের মধ্য দিয়েও দলটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি প্রধান শক্তি হিসেবে তার অবস্থান ধরে রেখেছে। ৭৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বাংলাদেশের ইতিহাসে দলটির অবদান নতুন প্রজন্মের কাছে স্মরণীয় ও অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।

লেখক , ড. আব্দুল ওহাব জোয়ারদার

লেখক , গবেষক, রাজনীতিবিদ, সাবেক ব‍্যাংকার

Leave a comment

Trending